kalerkantho


ভোলার ফেরিঘাট

টাকা না দিলে বসিয়ে রাখা হয়

রাশেদ খান রুবেল, ভোলা   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ভোলায় ফেরিঘাটগুলোতে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিআইডাব্লিউটিসির ঘাট ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও ঘাটে টহলরত পুলিশের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন শ্রমিক ইউনিয়ন ও স্থানীয় রাজনীতিবিদ নামধারী কিছু নেতা। বিশেষ করে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ও ভোলা-বরিশাল রুটের ভেদুরিয়া-লাহারহাট ফেরিঘাট দুটিতে এমন অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

জানা যায়, ভেদুরিয়া ঘাটের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর নজরুল ইসলাম ও ইনচার্জ জসিম ঘাটের হর্তাকর্তা। এভাবেই নজরুল ও জসিম বছরে কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এর একটা ভাগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মাসিক হিসাবে দিয়ে তারা বহাল তবিয়তে থাকছেন বছরের পর বছর।

এদিকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাটের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার (বাণিজ্য) ইমরান খানের বিরুদ্ধে পরের গাড়ি আগে ও আগের গাড়িকে ঘাটে তিন-চার দিন বসিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ভেদুরিয়া-লাহারহাট ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর ঘাটের কয়েকজন ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চালক বলেন, মাছের ও গরুর গাড়ি নিয়ে আমাদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ জন্য তাঁরা তাঁদের মনের মতো টাকা না দিলে বেঁকে বসেন। এ ছাড়া কারো কাছ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকার ভাড়া দুই হাজার টাকা, ৬০০ টাকার ভাড়া এক হাজার ৮০০ টাকা এবং এক হাজার ৪০০ টাকার ভাড়া লাহারহাট ঘাটে এক হাজার ৭০০ টাকা এবং ভেদুরিয়া ঘাটে এক হাজার ৯০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া গাড়িপ্রতি পুলিশকে ২০০ টাকা দিতে হয়।

এদিকে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা উত্তোলন করেন সুমন, খালেক ও সবুজ। তাঁরা সবাই স্থানীয় নেতাদের বেতনভুক্ত। এ বিষয়ে সুমন বলেন, ‘আমরা ৫০ টাকা করে প্রতিটি গাড়ি থেকে উত্তোলন করি। এ টাকা আমাকে ওঠানোর জন্য শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে বলেছে।’

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ভোলা-বরিশাল রুটের ভেদুরিয়া-লাহারহাট ঘাট ইনচার্জ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘাটে কোনো গরুর গাড়ি যাওয়া-আসা করে না। তাই চাঁদাবাজি হয় না। বিআইডাব্লিউটিসির বিরুদ্ধে ওরা সব সময় এসব কথা বলে থাকে।’

ভেদুরিয়া-লাহারহাট ঘাটে দায়িত্বরত সহকারী ম্যানেজার (বাণিজ্য) কাওছার হোসেন বলেন, ‘অফিস সহকারী নজরুল ও ঘাট ইনচার্জ জসিমের নামে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। তবে জহিরের নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ঘাটে দায়িত্বরত ম্যানেজার (বাণিজ্য) ইমরান খান বলেন, ‘এখানে অতিরিক্ত কোনো ভাড়া আদায় করা হয় না।’

তবে বরিশাল বিভাগীয় বিআইডাব্লিউটিসির সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের অভিযোগ এলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যখন ঘাটগুলো পরিদর্শন করতে যাই তখন কোনো গাড়ির চালক আমাদের কাছে অভিযোগ করে না। তাই আমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছি না।’



মন্তব্য