kalerkantho


কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ফেরিঘাট

সিরিয়ালের নামে রমরমা বাণিজ্য

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী, মাদারীপুর   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নাব্যতা সংকট আর ডুবোচরের কারণে নৌপথ সরু হয়ে গেছে। এতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দেশের অন্যতম দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ব্যস্ততম মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ রুট। সেই সঙ্গে ঘাট এলাকায় দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট। যাত্রীবাহী পরিবহন ও হালকা যানবাহন অগ্রাধিকার দিয়ে পার করায় বিপাকে পড়েছে ট্রাকচালকরা। এ সুযোগে সিরিয়াল বাণিজ্যে মেতে উঠেছে ঘাটের এক শ্রেণির অসাধু চক্র। অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এতে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছে ট্রাকচালকসহ পারাপারের অপেক্ষায় থাকা পরিবহন ও যাত্রীরা।

ঘাট, যাত্রীসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উজানে ব্যাপক নদীভাঙনের ফলে তীব্র স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা পলির কারণে শিবচরের কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ রুটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ১০ দিন ধরে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। ফলে ডাম্ব, রো রো ও কে টাইপ ফেরি বন্ধ করে দেয় বিআইডাব্লিউটিসি। কোনো রকমে ধীরগতিতে ছোট ফেরি চলাচল করছে। এতে কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌ রুটে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ যাত্রীবাহী বাস ও হালকা পরিবহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার শুরু করে।

ঝালকাঠি থেকে আসা পশুবাহী ট্রাকের চালক আ. মোবারেক বলেন, ‘আমি ভাঙ্গা থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ জায়গায় টাকা দিয়ে এসেছি। সিরিয়াল করতে যেখানে আগে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হতো, এখন সেখানে পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।’

ট্রাকচালক রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি টাকা দিতে পারি নাই। এ কারণে ১০ দিন ধরে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে বসে আছি। কোন দিন পার হতে পারব, তাও জানি না।’

কাঁঠালবাড়ী ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমিন বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত টিকিটের বাইরে এক পয়সাও নিচ্ছি না।’ কাঁঠালবাড়ী ঘাটের দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর উত্তম শর্মা বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য