kalerkantho


পণ্যবাহী যানবাহনে বেড়েছে ছিনতাই

শরীফ আহমেদ শামীম, গাজীপুর   

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



পণ্যবাহী যানবাহনে বেড়েছে ছিনতাই

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী ও হোতাপাড়া এলাকায় পণ্যবাহী যানবাহনে বেড়েছে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা। বিশেষ করে যানজটে আটকা পড়া ডিম, মুরগি ও মাছবাহী ট্রাক-পিকআপে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরের উজিলাব এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার রাতে শ্রীপুরের নিজ মাওনা এলাকা থেকে পিকআপে করে মুরগি নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী যাচ্ছিলেন তিনি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পিকআপটি টঙ্গী বাজার ও স্টেশন রোডের মাঝামাঝি পৌঁছালে যানজটে আটকা পড়ে। এ সময় পেছন থেকে পাঁচ ছিনতাইকারী পিকআপে উঠে চালক ও হেলপারকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের তিন শতাধিক মুরগি নিয়ে যায়। এ এলাকায় প্রায় রাতেই এ ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসায় আগের তুলনায় ছিনতাই বেড়েছে। পুলিশকে জানালেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। গত এক সপ্তাহে এ এলাকায় মুরগি, ডিম ও মাছের গাড়িতে ১০-১২টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

ভালুকার ভরাডোবা এলাকার মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, রাতে যানজটে মাছবাহী ট্রাক-পিকআপ আটকা পড়লেই তারা আতঙ্কে ভোগেন। সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা মাছের ড্রাম তুলে নিয়ে যায়। ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কখনো কখনো চালক, হেলপার ও ব্যবসায়ীরাও ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হচ্ছে।

ঢাকার তেজগাঁও এলাকার ভাই ভাই ডিমের আড়তের কর্মচারী সোহেল মিয়া বলেন, রাতে ছিনতাইকারীদের মূল টার্গেট ডিমের ট্রাক। বিশেষ করে হোতাপাড়া থেকে মাস্টারবাড়ী এলাকায় ডিমের গাড়িতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটেছে। চলন্ত গাড়ির সামনের কাচে পাথর ছুড়ে বা ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন থামিয়ে ডিম লুট করে নিয়ে গজারি বনে ঢুকে যায় ছিনতাইকারীরা। আবার যানজটে আটকা পড়লে টঙ্গীতেও প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ে জড়িতদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। বাধা দিলে ওরা খুনখারাবি করতেও দ্বিধা করে না। ডিমের গাড়ি থামলেও সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা ১০-১৫ কেসে ডিম নিয়ে যায়। প্রতি রাতেই ওই সব এলাকায় একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত এক মাসে তার ডিমের গাড়িতে দুইবার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গীর আনারকলি এলাকায় তাঁর ডিমের গাড়ি যানজটে থামার পর ছিনতাইকারীরা পাঁচ শতাধিক ডিম  নিয়ে যায়।

পুলিশকে জানানো হলেও অতীতে কোনো ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার না হওয়ায় এখন তাঁরা আর অভিযোগ করে না। ঈদ উপলক্ষে তিনি সড়কে বাড়তি নজরদারির দাবি জানান।

জানা গেছে, প্রতি রাতে ত্রিশাল, ভালুকা ও শ্রীপুর এলাকা থেকে মাছ, মুরগি ও ডিমের শত শত গাড়ি রাজধানীতে যায়। হোতাপাড়া ও টঙ্গীতে এই পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে টার্গেট করে ছিনতাই করা হচ্ছে। কখনো কখনো পুরো গাড়িও ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার কখনো কোনো কারণে গাড়ি থামলে ছোট গ্রুপ যা পায়, তা-ই ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ছোট গ্রুপের জড়িতরা সাবাই মাদক কারবারি। এরা অনেক সময় পুলিশের সোর্সের কাজও করে। তাই নানা কারণে পুলিশ তাদের ধরে না।

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের টঙ্গী এলাকার সার্জেন্ট মিজানুর রহমান জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাঁদের কাছে কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য