kalerkantho


ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বেতাগীর মানচিত্র

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ভাঙনে পাল্টে যাচ্ছে বেতাগীর মানচিত্র

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাঠবাজার, ৫০ শয্যার হাসপাতাল, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শত বছরের পুরনো কালীমন্দির ও শ্মশানঘাট, অতিথিদের থাকার ডাকবাংলা, ঝোপখালী গ্রাম, পুরোনো থানাপাড়া, কেওড়াবুনিয়াসহ বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার পরিবার। তিন কিলোমিটারব্যাপী ভাঙনের কবলে পাল্টে যাচ্ছে বেতাগীর মানচিত্র।

ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিষখালী নদীর পশ্চিম দিকে ঝালকাঠীর কাঁঠালিয়া এবং পূর্ব দিকে বরগুনার বেতাগী উপজেলা অবস্থিত। উত্তরে ঝালকাঠীর সুগন্ধ্যা ও বরিশালের কীর্ত্তনখোলা নদী এবং দক্ষিণে বলেশ্বর নদ যা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। পুরনো থানাপাড়ার বিপরীত দিকে চর জেগে ওঠায় নদীর স্রোত পরিবর্তিত হয়ে পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে ভেঙে যাচ্ছে বেতাগীর জনপদ। গত বর্ষা মৌসুমে ঝোপখালী গ্রামের শতাধিক পরিবার অন্যত্র সরে গেছে। সে সময় দক্ষিণ বাংলার বড় এ কাঠবাজারের অর্ধেকের বেশি দোকান বিষখালী নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

কাঠবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. রফিকুল আমিন বলেন, ‘কাঠবাজার রক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে কাঠবাজারের অস্তিত্বই থাকবে না।’ বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি পরেশ চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘বেতাগী বন্দর অতি পুরনো। এ বন্দর, কালীমন্দির ও শ্মশানঘাটকে রক্ষার জন্য সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সোবাহান বলেন, ‘আমরা অরক্ষিত অবস্থায় আছি।’

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ভাঙনরোধে এরই মধ্যে অর্থ বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’



মন্তব্য