kalerkantho


বড়াইগ্রামে খাল খনন না করে বরাদ্দ আত্মসাৎ

উল্টো গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা আদায়

নাটোর ও বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি   

১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ভবানীপুর খাল খনন না করে বরাদ্দের প্রায় তিন লাখ টাকার পুরোটা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উল্টো প্রকল্প সভাপতি গ্রামবাসীর কাছ থেকে ২০০-৩০০ টাকা হারে আরো প্রায় ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবানীপুর বিলের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ‘ভবানীপুর বিল থেকে ওয়ালিয়া বড় নদী অভিমুখে খাল খনন প্রকল্প’-এর জন্য টেস্ট রিলিফের (টিআর) ৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্প সভাপতি ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কামাল হোসেন খালের কোথাও খনন করেননি। কাগজ-কলমে কাজ হয়েছে দেখিয়ে বরাদ্দের প্রায় তিন লাখ টাকার পুরোটা তুলে প্রকল্প সভাপতি, চেয়ারম্যান চাঁদ মাহমুদসহ অন্যরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

এদিকে, প্রকল্প সভাপতি খাল খনন না করে একদিন ১৭ জন শ্রমিক নিয়ে খালের ভেতরের আগাছা পরিষ্কার ও তিন জায়গায় মাটির তৈরি অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করেছেন। এ জন্য তিনি জলাবদ্ধ কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা চাঁদা তুলে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করেছেন।

এ বিষয়ে ভবানীপুর গ্রামের রাখি বেগম ও তহমিনা খাতুন জানান, তাঁরা খালে কোনো মাটি কাটতে দেখেননি। ছয়-সাত দিন আগে একদিন কয়েকজন শ্রমিক এসে কিছু আগাছা জাতীয় গাছপালা কেটে পরিষ্কার ও কয়েকটি মাটির বাঁধ সরিয়েছে।

কৃষক ভাদু প্রামাণিক বলেন, ‘জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য খাল খননের বরাদ্দ এলেও তা করা হয়নি। এ কারণে জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হবে না।’

এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামাল হোসেন বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী কাজ করা হয়েছে।’ কোন অংশে মাটি কাটা হয়েছে এবং কতজন শ্রমিক কাজ করেছে তা জানাতে পারেননি তিনি। 

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চাঁদ মাহমুদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেনি। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ বসাক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটি থেকে এলে আমি তাঁকে জানাব।’



মন্তব্য