kalerkantho


ব্লেডে অস্ত্রোপচারে নবজাতকের মৃত্যু

হাতুড়ে চিকিৎসক গ্রেপ্তার অন্যজন পালিয়ে ভারতে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৫ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ব্লেড দিয়ে প্রসূতিকে সিজার করা ও পরে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হাতুড়ে চিকিৎসক লাল মোহন বর্মণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বীরেন্দ্রনগর এলাকা দিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার ওই নবজাতকের বাবা গ্রেপ্তার লাল মোহনসহ অভিযুক্ত দুই হাতুড়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। আরেক অভিযুক্ত উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের বড়খলা গ্রামের নূরুল আমিন ভারতে পালিয়ে গেছেন। প্রসূতি সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

পরিবার, পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ৮ আগস্ট বড়খলা গ্রামের সুজিত বর্মণের স্ত্রী শৌমরী বর্মণের প্রচণ্ড প্রসবব্যথা শুরু হলে খবর পেয়ে গ্রামের দুই পল্লী চিকিৎসক লাল মোহন বর্মণ ও নূরুল আমিন এগিয়ে আসেন। তাঁরা সুজিতের পরিবারকে জানান, গর্ভের বাচ্চা মারা গেছে, এখনই অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করতে না পারলে প্রসূতিও (শৌমরী) মারা যাবেন। প্রসূতির পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ওই দুই পল্লী চিকিৎসক ব্লেড দিয়ে প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন। তাঁদের অনভিজ্ঞতার কারণে নবজাতকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে যায়।

প্রসূতির পরিবার জানান, পেটের বাচ্চা মৃত ছিল না। অস্ত্রোপচার শুরুর সময়ও পেটের ভেতর নড়াচড়া করছিল। পরে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কাটাসহ বাচ্চার জন্ম হয়। নবজাতকের এই কাটা অংশে সেলাই করে দেন দুই পল্লী চিকিৎসক। একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন পাশের বিশ্বম্ভরপুর হাসপাতালে নবজাতক ও মাকে নিয়ে আসার পথে শিশুটি মারা যায়। পরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রসূতিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সুজিত বর্মণ বলেন, ‘আমার সুস্থ বাচ্চাটিকে ভুল অপারেশন করে মেরে ফেলেছে দুই হাতুড়ে ডাক্তার। আমার স্ত্রীর অবস্থাও ভালো নয়।’

তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘দুজনই হাতুড়ে ডাক্তার। তাদের সরকারি কোনো কাগজপত্র নেই। তারা ব্লেড দিয়ে প্রসূতির ভুল অপারেশন করে নবজাতককে খুন করেছে। এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যজন ভারতে চলে গেছে।’



মন্তব্য