kalerkantho


তালা ভেঙে দখলে নিয়ে গাছ কাটলেন চেয়ারম্যান

সৈয়দপুরে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর নামে বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন বাড়ি

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে একটি সরকারি পরিত্যক্ত বাড়ি তালা ভেঙে দখলে নিয়ে ভাড়া দেওয়া ও বেশ কিছু মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বাড়িটি শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মশিউর রহমানের স্ত্রী গুলশানারা বেগমের নামে বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন। তিনি গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিত্যক্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর নামে যাতে বাড়িটি বরাদ্দ না হয় সে ষড়যন্ত্রও চলছে বলে অভিযোগ। অভিযোগের অনুলিপি সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়রসহ অন্যান্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

দখলে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ লুনার দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

অভিযোগে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়ার কয়া মৌজায় ৬ শতক জমিতে ৪৮ নম্বর পরিত্যক্ত সরকারি আধাপাকা বাড়ি রয়েছে। বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী গুলশানারা বেগম তাঁর নামে বরাদ্দ পেতে কয়েক বছর আগে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু বাড়িটি নিয়ে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বরাদ্দপ্রক্রিয়ার বিষয়টি বিচারাধীন। এরই মধ্যে বাড়িটি গুলশানারাকে বরাদ্দ দিতে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকত চৌধুরী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি সুপারিশপত্র (ডিও লেটার) দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সদ্য বদলি হওয়া নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালিদ রহীম বাড়িটি পরিদর্শন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নীলফামারী গণপূর্ত বিভাগ এবং ব্যবস্থাপনা বোর্ড কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে বাড়িটি দেখভালের দায়িত্ব দেয় গুলশানারাকে। এরই মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে বাড়িটি গুলশানারার নামে বরাদ্দের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কর্তৃপক্ষ প্রক্রিয়া শুরু করে। খবর পেয়ে অতি সম্প্রতি ধনাঢ্য প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ লুনার গভীর রাতে তালা ভেঙে বাড়িটি দখলে নিয়ে নাসিম রেজা লিটন নামের ব্যক্তিকে ভাড়া দেন। গত বুধবার রাতে ওই বাড়িতে থাকা মেহগনি, নিমসহ বেশ কয়েকটি গাছ কেটে ফেলে চেয়ারম্যানের লোকজন। বাড়িতে নতুন ইটও জড়ো করা হয় স্থাপনা নির্মাণের জন্য। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানান গুলসানারা।

গুলশানারা বেগম জানান, তাঁর অনুকূলে বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন বাড়ির গাছ কর্তনসহ আকৃতি পরিবর্তনে লিপ্ত হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। অথচ চেয়ারম্যান সচ্ছল ব্যক্তি এবং নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়ার উপযুক্ত নন। তিনি ভুল তথ্য দিয়ে বাড়িটি হাতিয়ে নেওয়ার প্রভাব খাটাচ্ছেন। গুলশানারা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।

সৈয়দপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার বলেন, ‘নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) নির্দেশে আমি ওই সরকারি পরিত্যক্ত বাড়িতে গিয়ে দখল ও গাছ কাটার সত্যতা পাই। দখলদার ওই ব্যক্তি বাড়িটির আকার-আকৃতি পরিবর্তনের জন্য কাজ করছিলেন। আমি তা বন্ধ করে কেটে ফেলা গাছগুলো উদ্ধার করে আমার অফিসে নিয়ে আসি।’

অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ লুনার বাড়িটি দখলের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘১১-১২ বছর ধরে বাড়িটি আমার দখলে রয়েছে। বাড়ির লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। তাই বাড়িতে একটি টিনশেড কক্ষ নির্মাণের জন্য ছোট একটি গাছ কাটা হয়েছে। এটি আমার ভুল হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাড়িটি বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এখনো বরাদ্দ পাইনি।’



মন্তব্য