kalerkantho


যানজটে নাকাল নেত্রকোনা শহর

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



তীব্র যানজটে নাকাল নেত্রকোনা শহর। ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বহীনতা, পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, প্রচারহীন ট্রাফিক আইন, অবৈধ পার্কিং, নিয়ন্ত্রণহীন ইজি বাইক, অসংখ্য ইঞ্জিনচালিত রিকশা ও পৌর শহরের রাস্তাঘাট ভাঙাচোরার কারণে নেত্রকোনা শহর যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ মুমূর্ষু রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নেত্রকোনা সাতপাই এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট দীপক তালুকদার বলেন, ‘আখড়ার মোড় থেকে চুড়িপট্টি হয়ে শহীদ মিনার মোড় পর্যন্ত সরু রাস্তার কারণে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। থানার মোড় থেকে মাইক্রোস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তাটি ভারী যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। রাস্তাটির ১০ হাত পরপরই বড় বড় গর্ত রয়েছে। ফলে ভারী যানবাহন চলাচলের একমাত্র ভরসা রাজুর বাজার থেকে মোক্তারপাড়া সেতু পর্যন্ত প্রধান সড়কটি। এ সড়ক দিয়ে জেলার অভ্যন্তরীণ ও বাইরের উপজেলার সব যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের ফলে এ সড়কে যানজট লেগেই থাকে।

সাতপাই এলাকার বাসিন্দা অধ্যাপক ইকবাল আহাম্মেদ জানান, নেত্রকোনা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এবারও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে দুই হাজার ইজি বাইকের লাইসেন্স দিয়েছে। নতুন-পুরনো মিলে প্রায় পাঁচ হাজার ইজি বাইক চলাচল করছে শহরে। ইজি বাইক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গত তিন বছরে জেলা শহরে প্রাণ হারিয়েছে সাতজন। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে দুই শতাধিক। এ ব্যাপারে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ ইজি বাইক নিয়ে রীতিমতো বাণিজ্য করছে। যিনি মেয়র হন তিনিই নতুন নতুন লাইসেন্স দেন। ফলে ইজি বাইকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

নেত্রকোনা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু নাসের মোহাম্মদ জহির বলেন, শহরে দিনেরবেলায়ও লরি চলাচল করে। ইজি বাইকের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে গত মাসে প্রায় এক হাজার যানবাহনকে জরিমানা করা হয়েছে। নেত্রকোনা পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নেত্রকোনা পৌর এলাকার দুই-তিনটি সড়কে সংস্কারের কাজ চলছে। এগুলো আমরা দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করছি। তা ছাড়া যানজটের বিষয়টি সাময়িক। শিগগিরই এর অবসান ঘটবে।’



মন্তব্য