kalerkantho


ভাঙন

মানচিত্র কমছে চৌহালীর

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে যমুনা নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে দফায় দফায় ভাঙনের কবলে পড়েছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বিস্তৃীর্ণ এলাকা। অব্যাহত এ নদীভাঙনে নতুন করে বিলীন হয়েছে অন্তত পাঁচটি গ্রাম। প্রচণ্ড স্রোত থাকায় নদীর তীর ঘেঁষে তীব্র ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার উত্তরে বোয়ালকান্দি থেকে দক্ষিণে পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের খেলা চলছে। এতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পুরো উপজেলা।

জেলার অন্যান্য উপজেলার মতো এখানেও সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ছিল। তবে যমুনার ভাঙনে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছে উপজেলার বিস্তৃীর্ণ জনপদ। আগে এ উপজেলার আয়তন ছিল ২০২ বর্গমাইল। এরই মধ্যে প্রায় ১৫০ বর্গমাইল যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। ফলে উপজেলাটি সিরাজগঞ্জের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

চলতি বর্ষায় যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া পূর্বপাড়া, হাটাইল দক্ষিণ পাড়া ও চরবিনানুই, খাসকাউলিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দরশি ও উত্তর খাসকাউলিয়া, খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী ও শাকপাল, ওমরপুর ইউনিয়নের শৈলজানা ও ঘোরজান ইউনিয়নের চরজাজুরিয়া এলাকার শত শত ঘরবাড়ি, বিভিন্ন কাঁচাপাকা স্থাপনাসহ আবাদি জমি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণেই উপজেলাটি ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিতে চলেছে। অবিলম্বে ভাঙন রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায় তারা।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনীতিবিদরা জানান, চৌহালী উপজেলাটি সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে না হয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে থাকায় দুর্যোগকালীন সময়ে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, সিরাজগঞ্জ বাঁধরক্ষা আর নদী ভাঙন রোধ করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে তারা কবে নাগাদ ব্যবস্থা নেবে, তা জানা যায়নি।

উপজেলারটির অস্তিত্বসহ যেটুকু জনপদ অবশিষ্ট রয়েছে, তা রক্ষায় সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।



মন্তব্য