kalerkantho


মহাসড়কে তিন হাট

বড়াইগ্রামে ভোগান্তি

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি   

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মহাসড়কে তিন হাট

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া হাটের দিন নাটোর-পাবনা মহাসড়কজুড়ে দোকানিরা পসরা নিয়ে বসে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শনিবার যানজটে রোগীবাহী একটি অ্যাম্বুল্যান্স (ইনসেট) আটকা পড়ে। ছবি : কালের

নাটোর-পাবনা মহাসড়কজুড়ে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া, আহম্মেদপুর ও রাজাপুর হাট নির্দিষ্ট সীমা লঙ্ঘন করে মহাসড়কজুড়ে বসে। এই তিন হাটের কারণে সপ্তাহের চার দিন যানজট লাগে। পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার পক্ষ থেকে বনপাড়া হাট প্রায় ৫০ লাখ টাকা, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আহম্মেদপুর হাট প্রায় ১৪ লাখ টাকা এবং রাজাপুর হাট ১০ লাখ টাকায় প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়।

উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার বনপাড়া হাট বসে শনি ও মঙ্গলবার। কালিকাপুর নতুন বাজার এলাকায় হাটের সীমা ছেড়ে মহাসড়ক ঘিরে বসে কাঁচা সবজি, রসুন, পেঁয়াজ আর পাটের হাট। জোয়াড়ী ইউনিয়নের  আহম্মেদপুর হাট বসে সোম ও বৃহস্পতিবার। এই হাটের সীমা ছেড়ে মহাসড়ক ঘিরে বসে কাঁচা সবজি, রসুন, পেঁয়াজ, পাট ও মৌসুমি ফলের মোকাম। রাজাপুর হাট বসে প্রতি বৃহস্পতিবার। এই হাটেও সীমা লঙ্ঘন করে মহাসড়ক ঘিরে বসে উপজেলার বৃহৎ মাছের আড়ত। এ ছাড়া কাঁচা সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, পাট তো আছেই।

এই তিন হাট এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশ পারাপারে সময় লাগে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। হাটগুলোতে মহাসড়কজুড়ে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক, নসিমন, করিমন, ট্রাক্টর, ভ্যান দখল করে থাকে। হাটবারে শিক্ষার্থীরা চলাচলে বিপাকে পড়ে। শিশু শিক্ষার্থীরা যানজটপূর্ণ সড়কে হাঁটতে পারে না। আবার চালক-শ্রমিকদের দ্বারা ছাত্রীরা নানাভাবে নাজেহাল হয়।

ভোগান্তির শিকার একাধিক মানুষ জানায়, তিনটি হাটের কারণে বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তারা। কোনোভাবে এর স্থায়ী প্রতিকার হচ্ছে না।  মাঝেমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সড়ক ও জনপথ এবং হাইওয়ে পুলিশ অভিযানে নামে; কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এক হাট পরে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাই মহাসড়ক দখল করে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তথা এই বিড়ম্বনার স্থায়ী সমাধান চায় সাধারণ মানুষ।

বনপাড়া হাট সম্পর্কে পৌরসভার সচিব রেজাউল করিম বলেন, ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা সীমা লঙ্ঘন করে। আবার হাটের জায়গাও সীমিত। তবু স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এর স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজাপুর হাট সম্পর্কে গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ ভোগান্তির অবসান ঘটানো হবে। তিনি বলেন, মাছের আড়তের জন্য মহাসড়ক ছেড়ে নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া চান্দাই সড়ক এবং অর্জুনপুর সড়কের মোড় ঘিরে সৃষ্ট যানজটের অবসান করতে মোড় দুটির পাশে প্রশস্ত জায়গা করা হয়েছে। তিনি জানান, সড়ক ও জনপথ বাজার অংশে প্রশস্ত করে সড়ক নির্মাণ করলে এ সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়ে যাবে।

আহম্মেদপুর হাট সম্পর্কে জোয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান চাঁদ মাহমুদ বলেন, হাটবারে একটু-আধটু সমস্যা হতেই পারে। এলাকার স্বার্থে এটুকু সহ্য করতেই হয়।

সড়ক ও জনপথ নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে হাট এলাকাগুলোতে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া সর্বক্ষণ দেখভালের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার পরিদর্শক জি এম শামসুন নুর বলেন, ‘অভিযান চলমান। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ঘন ঘন অভিযান চালালে বেশি সুফল পাওয়া যাবে।

বড়াইগ্রামের ইউএনও আনোয়ার পারভেজ বলেন, ওই তিন হাট এলাকায় মাঝেমধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান ও হাট ইজারাদারদের সতর্ক করা হয়েছে। তারা অপারগ হলে ইজারা বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



মন্তব্য