kalerkantho


দৌলতদিয়া যৌনপল্লী

ফের সক্রিয় দালালরা

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর দালালচক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আইনের চোখে ধুলা দিয়ে প্রায়ই তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের পল্লীতে নিয়ে যায়। পরে পল্লীর বিভিন্ন বাড়িওয়ালির কাছে মেয়েদের নগদ টাকায় বিক্রি করে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী দৌলতদিয়াঘাট রেলস্টেশনের পাশে অবস্থিত। বর্তমানে সেখানে প্রায় তিন হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। এর মধ্যে কয়েক শ শিশু-কিশোরী রয়েছে। সেখানে প্রভাবশালী বাড়িওয়ালিদের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে বিশাল দালালচক্র।

স্থানীয়রা জানায়, প্রভাবশালী বাড়িওয়ালিদের অনেকে পল্লীর বাইরে গোয়ালন্দ পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নিজস্ব বাড়িঘর করেছেন। নারী পাচারের কাজে তাঁরা এই বাড়িগুলো ব্যবহার করেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দালালের মাধ্যমে আনা নতুন কোনো মেয়েকে সরাসরি পল্লীতে আনা হয় না। প্রথমে পল্লীর বাইরে থাকা বাড়িওয়ালির বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে দুই-তিন দিন তালাবদ্ধ করে রাখার পর সুযোগ বুঝে বাড়িওয়ালি ওই মেয়েকে পল্লীতে নিয়ে যৌন ব্যবসার কাজে লাগায়।

এদিকে গত রবিবার সন্ধ্যায় গোপন খবর পেয়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় এক কিশোরী মেয়েকে উদ্ধার ও বাড়িওয়ালি ঋতু বেগমকে হাতেনাতে ধরা হয়। ওই কিশোরীকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিয়ে বাড়িওয়ালির কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে দালাল শুভ পালিয়ে যায়। তখন থেকে বাড়িওয়ালি জোর করে কিশোরীকে যৌনকর্মে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এ অবস্থায় গত রবিবার সন্ধ্যায় গোপন খবর পেয়ে পল্লীতে অভিযান চালায় পুলিশ।

পল্লীর এক মুদি দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পল্লীর প্রধান গেটসহ বিভিন্ন প্রবেশ মুখে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা রাখা হলে দালালরা সহজে নতুন মেয়েদের আনার সুযোগ পাবে না।’

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, পল্লীতে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। সেখানে শিশু-কিশোরীসহ কোনো নারী পাচারের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালানো হয়।



মন্তব্য