kalerkantho


টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী

তিন ঘণ্টায়ও ভ্যাকসিন না দেওয়ায় মৃত্যু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির তিন ঘণ্টা পরও সাপেকাটা রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী শহিদুল ইসলাম শান্ত।  

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম শান্ত জানান, গত ১৬ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে কালিহাতীর চর ভাবলা গ্রামের বাড়ির দোকানে তাঁর বাবা আবু সাঈদকে (৬০) সাপে কাটে। দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তখন দায়িত্বরত ছিলেন সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন বিভাগ) ডা. মনিরা আফরোজ। তিনি (মনিরা) শান্তকে জানান, হাসপাতালে সাপে কাটার ভ্যাকসিন নেই। পরে বিষয়টি টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন শরিফ হোসেন খানকে জানালে তিনি সাপে কাটার ভ্যাকসিন ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। শান্ত তাঁর স্টাফ। শান্তর বাবাকে দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে চিকিৎসককে অনুরোধ করেন সিভিল সার্জন। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। পরে শান্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা আশ্বাস দিলেও ডা. মনিরা তিন ঘণ্টা পর জানান, তিনি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে পারবেন না। রোগীকে ঢাকা কিংবা মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রোগীর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে মমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত সোয়া ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

শহিদুল ইসলাম শান্ত বলেন, ‘আমি একজন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মচারী। অথচ সরকারি হাসপাতালে সাপে কাটা ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও আমার বাবাকে দেওয়া হয়নি। তাহলে সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে কী হবে!’

ডা. মনিরা আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভ্যাকসিন দিলেও রোগীর সমস্যা হতে পারে। সাপে কাটা রোগীকে ভ্যাকসিন দিতে যে রকম সেটিং থাকা দরকার সে রকম সেটিং তখন ছিল না। এ জন্যই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি। রোগীর স্বজনরা সব কিছু জেনেও এমন অভিযোগ করছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৃত আবু সাঈদের ছোট ছেলে সোহেল রানা, মেয়ে শান্তা ইসলাম, টাঙ্গাইল

স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রমুখ।



মন্তব্য