kalerkantho


বরাদ্দ খেলেন সভাপতি

রাস্তা সংস্কার জনতার টাকায়

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের একটি রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায়। অথচ কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় একই রাস্তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯ টন চাল।

অভিযোগ উঠেছে, গ্রামবাসীর সংস্কার করা রাস্তা দেখিয়ে বরাদ্দ পকেটে পুরেছেন প্রকল্প সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। তাঁর বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ওয়াদুদ হোসেন বাবু। অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে রাস্তা সংস্কারের জন্য চাঁদাদাতাদের একটি তালিকা। তালিকা অনুযায়ী ৫৪ জন গ্রামবাসী দিয়েছে দুই লাখ ৯২ হাজার ৭০০ টাকা।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে বরাইদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় খয়রাতের বাড়ি থেকে মনিরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের কোটা থেকে কাবিটা কর্মসূচির আওতায় এই রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯ দশমিক ৭ টন চাল। সাত সদস্যের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় জাহাঙ্গীর আলমকে। জুনের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত করার কথা। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, জনগণের চাঁদার টাকায় সংস্কার করা রাস্তা দেখিয়ে প্রকল্প সভাপতি কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ চাল তুলেছেন।

অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী চাঁদাদাতাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন মাহফুজুল ইসলাম স্বপন। তিনি চাঁদা দিয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে চাঁদা দিয়ে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, নিচু রাস্তার কারণে গ্রামের অনেকের বাড়ি ভাঙনের মুখে পড়ে। রাস্তা উঁচু করে সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা সবাই মিলে চাঁদা তুলে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এ রাস্তায় কোনো প্রকল্পের মাটি পড়েনি।

মো. টিটু মিয়া চাঁদা দিয়েছেন ১২ হাজার টাকা। তিনি জানান, ৯০০ ফুট লম্বা, ৩০ ফুট প্রস্থ ও চার ফুট উঁচু করে তারা রাস্তা সংস্কার করেছেন। তিনি লোকমুখে শুনেছেন, রাস্তার জন্য ৯ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য চাঁদাদাতারা জানায়, তাদের মাটির কাজ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে। এর প্রায় তিন মাস পরে কাবিটার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ থেকে কাবিটার কাজে ফাঁকিবাজি প্রমাণিত হয়। তারা অভিযোগ করে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এই ফাঁকিবাজির সঙ্গে জড়িত। তিনি কখনোই প্রকল্প পরিদর্শন করেননি। এ কারণে কাজ না করলেও প্রকল্পের চাল ছাড় দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যাবে।

প্রকল্প সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ বলেন, কাজ নিয়ে একটু ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা মিলে বিষয়টি ফয়সালা করে দিয়েছেন। যে কাজ বাকি তা করে দেবে প্রকল্প কমিটি।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আম্বিয়া খাতুন শিল্পী অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।



মন্তব্য