kalerkantho


জয়পুরহাটে বৃষ্টির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে আমন চাষ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণ এলেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। ফলে আমন চাষ নিয়ে রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছে জয়পুরহাটের কৃষকরা। বিশেষ করে এ অঞ্চলে আমন চাষের পর আলু চাষ করে কৃষকরা। কিন্তু জমিতে পানি না থাকায় আমনের চারা রোপণে বিলম্ব ঘটছে। অনেকে আবার সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছে। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে সেগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

সদর উপজেলার ধারকি, হিচমি, বানিয়াপাড়া ও কোমর গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির অভাবে মাঠের পর মাঠ শুকিয়ে গেছে। এ অবস্থায় কৃষকরা সেচ দিয়ে আমনের চারা রোপণ করছে। 

এ প্রসঙ্গে হানাইল গ্রামের কৃষক ফরিদ হোসেন বলেন, ভরা বর্ষায় বৃষ্টির দেখা না পেয়ে তিনি স্থানীয় গভীর নলকূপ থেকে বিঘাপ্রতি ২০০ টাকা দিয়ে পানি কিনে নিয়ে সাত বিঘা জমিতে আমনের চারা রোপণ করেছেন। রোপণের পর আমনের চারা তীব্র খরায় পুড়ে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা গেছে, ক্ষেতলাল উপজেলার তিলাবুদুল, তালশন, বিনসারা ও সাগরামপুরের মাঠেও। এ বিষয়ে তালশন গ্রামের কৃষক লুত্ফর রহমান বলেন, বিনসারা ছাড়াও পাশের সাগরামপুর মাঠে তাঁর ১০ বিঘা জমি শুকিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দেওয়া হচ্ছে।

সাগরামপুর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক মজিবর রহমান বলেন, ‘বৃষ্টির পানি ছাড়া আমনের ফলন ভালো হয় না। বাপ-দাদার আমল থেকেই আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বৃষ্টির পানিতে আমরা আমন চাষ করে আসছি। কিন্তু বর্ষায় বৃষ্টির দেখা না পেয়ে বাধ্য হয়ে এবার সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছি। তা-ও তীব্র গরমে ধানগাছের পাতা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায় বলেন, এ বছর জেলায় রোপা আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৯৫২ হেক্টর জমিতে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে পানি না হওয়ায় আবাদ কিছুটা কম হয়েছে।



মন্তব্য