kalerkantho


কোটি টাকা নিয়ে উধাও

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



কোটি টাকা নিয়ে উধাও

রেবতী মণ্ডল

ঢাকায় নতুন ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ জনের কাছ থেকে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপন করার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরের নাজিরপুরের রেবতী কুমার মণ্ডল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করেন। দুটি মামলায় আসামি রেবতীকে এক বছর করে কারাদণ্ডসহ ৯০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নাজিরপুর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত এক অধ্যাপক। আরো কয়েক ভুক্তভোগী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত রেবতী কুমার পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ১ নম্বর মাটিভাঙ্গা ইউনিয়েনের উত্তর বানিয়ারী গ্রামের মহেন্দ্রনাথ মণ্ডলের ছেলে ও কথিত লালবাগ রিয়েল এস্টেটের মালিক।

প্রতারিতদের একজন ঢাকার ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল গৌরীপ্রসন্ন চক্রবর্তী। দুইবার স্ট্রোকের পর তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিছানায় পড়ে আছেন। ঘরে দুই বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে। অর্থাভাবে তাঁদের বিয়ে দিতে পারছেন না তিনি ও তাঁর স্ত্রী অপর্ণা দেবী। গৌরীপ্রসন্ন শিক্ষকতা পেশা শেষে পেনশনের টাকা সরল বিশ্বাসে তুলে দিয়েছিলেন ডেভেলপার রেবতী কুমার মণ্ডলের হাতে। রেবতী তাঁদের স্বপ্ন দেখান, ঢাকায় বাজারদরে অতি অল্প সময়ে তাঁদের ঝকঝকে নতুন ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। একই স্বপ্নে যুক্ত হয়েছিলেন অধ্যাপক স্বপন কুমার মিত্র, প্রকৌশলী বিপুল কৃষ্ণ সূতার, সুবোধ চন্দ্র ঢালী, অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার রায়, ডা. বিশ্বনাথ ঘোষ, অসীম কুমার বসু, ভজন চন্দ্র দাস, রণজিৎ কুমার শীল। এঁদের আটজনের বাড়িই নাজিরপুরে।

সমচিন্তা-চেতনার এসব মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সপরিবারে একই ভবনে থাকার স্বপ্ন নিয়ে একত্র হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের শুরু থেকে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৯ জনের কাছ থেকে কোনো রসিদ বা চুক্তিপত্র ছাড়াই রেবতী মণ্ডল নিয়েছেন এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। ফ্ল্যাটের কোনো কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করে তিনি এখন লাপাত্তা। ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন। আদালতের দেওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নাজিরপুর থানা পুলিশের হাতেও পৌঁছেছে; কিন্তু রেবতীকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এখন ভুক্তভোগীরাই খুঁজে বেড়াচ্ছেন রেবতীকে। গতকাল দুপুরে নাজিরপুর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে এ চিত্র তুলে ধরেন প্রতারণার শিকার ঢাকার আলহেরা কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও স্বরূপকাঠির বলদিয়া ইউনিয়নের রাজবাড়ী এলাকার স্বপন কুমার মিত্র। তিনি বলেন, “বর্তমানে লালবাগ রিয়েল এস্টেটের কোনো অফিস, জনবল, সাইনবোর্ড কিছুই নেই। ঢাকার রায়েরবাজারের হাশেম খান রোডে কম্পানির কথিত ফ্ল্যাট প্রকল্প ‘লালবাগ সুকুল প্যালেস’-এ একখণ্ড উন্মুক্ত খোলা জমি ছাড়া কিছুই দেখা যাবে না।’

অভিযুক্ত রেবতী মণ্ডল ও তাঁর ভাই অজিত কুমার মণ্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নাজিরপুর থানার ওসি মেহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, প্রতারণার বিষয়ে রেবতী মণ্ডলের নামে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিকবার তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়েও পাওয়া যায়নি।

 



মন্তব্য