kalerkantho


রাজশাহী, ১৫-১৯ নম্বর ওয়ার্ড

‘শুধু ট্যাক্সই দেই, কোনো সুবিধা পাই না’

রফিকুল ইসলাম ও রেদওয়ানুল হক, রাজশাহী   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন ঘিরে নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় চলছে প্রার্থীদের গণসংযোগ। সাধারণ মানুষ প্রার্থীদের কাছে ব্যক্ত করছে তাদের প্রত্যাশাগুলো। তবে প্রার্থীরা সাধারণ মানুষদের কতটুকু প্রত্যাশা পূরণ করবেন সেটাই দেখার বিষয়। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর ১৫ থেকে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানায় তাদের অসুবিধা আর অপ্রাপ্তির কথা।  

‘শুধু ট্যাক্সই দেই, কোনো সুবিধা পাই না’ : রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দারা সিটি করপোরেশনের মধ্যে বসবাস করলেও সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকায় সুপেয় পানির জন্য একটিও টিউবওয়েল নেই। সাপ্লাইয়ের পানিই একমাত্র ভরসা। আবার সন্ধ্যার পর সেই পানির সাপ্লাইও বন্ধ থাকে। রয়েছে ড্রেনেজব্যবস্থারও সংকট। ওই এলাকায় এখনো ১৭টি কাঁচা রাস্তা এবং ৩২টি ড্রেনের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ঘরের সামনে দিয়ে মাটি খুঁড়ে কোনো রকম ড্রেনের ব্যবস্থা করেছেন এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে শুধু আমরা ট্যাক্সই দেই, কোনো নাগরিক সুবিধা পাই না।’

এ ছাড়া ওয়ার্ডের সিরোইল কলোনি এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) গুদামে পর্যাপ্ত জায়গা না হওয়ায় প্রায়ই গুদামের বাইরে কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সারের বস্তা রাখায় এলাকাজুড়ে প্রকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে ওই গুদামের আশপাশের সড়কগুলো দিয়ে চলাচল এবং স্থানীয় লোকজনকে বসবাসে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে জানান স্থানীয় এক ওষুধ ব্যবসায়ী সেলিম খান। গুদাম কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

শিশুদের জন্য বিনোদনকেন্দ্রের কোনো ব্যবস্থা নেই : নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শালবাগান এলাকায় শিশুদের বিনোদনকেন্দ্রের কোনো ব্যবস্থা নেই। পাঁচ বছর আগে বিনোদনকেন্দ্রের জন্য সিটি পার্ক নামে একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। শুধু প্রাচীর করেই কাজ শেষ। পাঁচ বছরেও সম্পন্ন হয়নি পার্ক নির্মাণের কাজ। তদারকি না থাকায় প্রাচীরঘেরা জায়গাটি এখন পরিণত হয়েছে মাদক সেবনের জায়গা হিসেবে।

ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ফাইজুল হক ফাহি ওয়ার্ডবাসীকে তাদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, পার্কটি নির্মিত হলে এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হবে। শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি হাঁটাহাঁটির জায়গাও তৈরি হবে। এতে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সুবিধা হবে।

নেতাদের শুধু নির্বাচনের আগেই দেখা মেলে : নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলছে, নেতাদের শুধু নির্বাচনের আগেই দেখা পাওয়া যায়।

ওয়ার্ডের শিল্পপাড়া এলাকার চায়ের দোকানি শেখ হাফিজ জানান, এ এলাকায় ড্রেন আর রাস্তার সমস্যা রয়েছে। রাস্তাঘাটগুলো জায়গায় জায়গায় ভাঙা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। তা ছাড়া খেলাধুলারও কোনো মাঠ নেই।

ভারি বৃষ্টিতে ড্রেনের পানি ঘরে : নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নওদাপাড়া কাঁচাবাজার থেকে রায়পাড়ার মধ্য দিয়ে নির্মিত ড্রেনটির অবস্থা একদম শোচনীয়। কাঁচাবাজারের সব ময়লা এই ড্রেনে ফেলা হয়। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ হয়ে আছে ড্রেনের বিভিন্ন স্থানে। ড্রেনের পানিরও নেই নড়চড়। এতে মশা ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভারি বৃষ্টি হলেই ড্রেনসংলগ্ন বিভিন্ন দোকান ও ঘরবাড়িতে পানি ওঠে বলে জানান রায়পাড়ার দোকানি দেলোয়ার হোসেন ও এলাকার বাসিন্দা আব্দুুল গফুর।     

লেভেলক্রসিংয়ে লোক নেই : নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্ণালি এলাকা থেকে শুরু করে রেলগেট পর্যন্ত রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেললাইনে অবৈধ লেভেলক্রসিং রয়েছে চারটি। এর মধ্যে কদমতলায় দুটি, আমবাগান ও দড়িখরবোনায় একটি করে; যার কোনোটিতেই লাইনম্যান নেই।

 



মন্তব্য