kalerkantho


কিশোরগঞ্জের মজিদ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়

দুর্নীতি-অনিয়মে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও দলাদলির কারণে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আবদুল মজিদ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্ব চরমে উঠছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। তা ছাড়া সেশন ফি ও পরীক্ষার ফি অন্য বিদ্যালয় থেকে এখানে অনেক বেশি নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত সপ্তাহে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

গত শনিবার সরেজমিন গিয়েও এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, বিদ্যালয়ে দুটি পাঠাগার থাকলেও সেখান থেকে বই নিতে পারে না তারা। সারা বছর পাঠাগার দুটি তালাবদ্ধ থাকে। তা ছাড়া বিজ্ঞান শাখার ব্যাবহারিকের জন্য যে ল্যাবটি রয়েছে, সেটিও বন্ধ থাকছে। ল্যাবের যন্ত্রপাতি অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মোল্লা মেহেদী হাসান প্লাবন অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রমের দিকে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির কোনো নজর নেই। তাঁরা কেবল আর্থিক বিষয়াদির দিকে খেয়াল রাখছেন।’

জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, নিয়মানুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণির পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ২২৫ টাকা, কিন্তু নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৭০ টাকার বদলে নেওয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার কিশোরগঞ্জ-পাকুন্দিয়া সড়কের ডান পাশে বিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস। তা ছাড়া রাস্তার বাঁ পাশে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে একটি পাকা ভবন রয়েছে। তবে ভবনটি ব্যবহার না করে সব সময় তালাবদ্ধ রাখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘সেশন ফি ও পরীক্ষার ফি কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নেওয়া হচ্ছে। পাঠাগারও ঠিকঠাকভাবে চলছে। বিদ্যালয়ের ল্যাবটি অনেক পুরনো হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আর খেলার মাঠের ভবনটিতে ক্লাস নিলে ছাত্রছাত্রীদের ধরে রাখা যায় না। তাই সেখানে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে না।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জুবায়ের আলম বলেন, ‘এলাকার একটি পক্ষ নিজেদের স্বার্থে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এগুলো করছে। প্রতিষ্ঠানের পুকুরগুলো যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই লিজ দেওয়া হয়েছে। আমার দেখা মতে, কোথাও কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য