kalerkantho


দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মার পার ভাঙন

খোয়া ও বালুভরা বস্তা ফেলে রোধের চেষ্টা

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে পানি ও স্রোতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। এরই মধ্যে উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদীর পার ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানে ছয়টি ঘাটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৬ নম্বর ফেরিঘাটটি ভাঙনের হুমকিতে আছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদীর পার ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। না হলে বর্ষায় ভাঙনের কবলে পড়ে দৌলতদিয়ার সবকটি ফেরিঘাট পদ্মায় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পদ্মা নদীর পার ভাঙন চলছে। এর মধ্যে ৬ নম্বর ফেরিঘাটসহ পাশের বাহির চর গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। সেখানে ভাঙন রোধে ইটের খোয়া ও বালুভরা বস্তা ফেলে ফেরিঘাটটি রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিআইডাব্লিউটিএর কর্মীরা।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতিদিন এ পথে কয়েক হাজার বিভিন্ন গাড়ি ও যাত্রী ফেরি পারাপার হয়। তবে কয়েক দিন ধরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার বিভিন্ন স্থানে (পয়েন্ট) নদীর পারে ভাঙন চলছে।

‘গাঙে গিলা খাইবো বাড়িঘর’ ৬ নম্বর ফেরিঘাটের পাশেই বাহির চর গ্রাম। গ্রামের বাসিন্দা কাইয়ুম বেপারী, খবির খান, আতর আলী, জাফর সরদারসহ অনেকে জানায়, কয়েক দিন ধরে পদ্মায় পানি ও স্রোতের তীব্রতা বাড়ছে। এতে বাহির চরে নদীর পার ভাঙছে। গ্রামের অনেকেই তাদের বাড়িঘর ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।

বাহির চরের এক গৃহবধূ লিপি বেগম বলেন, ‘ভাঙনের অবস্তা যা দেখতাছি তাতে দুই-চার দিনের মধ্যেই আমার ঘরডাও গাঙে গিলা খাইবো। ঘর ভাঙলে বাচ্চাকাচ্চা নিয়া থাকুম কই! সারাক্ষণ এই চিন্তায় রাইতে ভালোমতো ঘুমাইতেও পারি না ভাই।’

 



মন্তব্য