kalerkantho


বালিয়াকান্দির খামার মাগুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বৃষ্টি হলে বন্ধ থাকে পাঠদান

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঝড়ে ভেঙে গেছে টিনশেডের শ্রেণিকক্ষ। তাই বলে কি পড়াশোনা থেমে থাকবে? নিরুপায় হয়ে গাছতলায় পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা। কিন্তু বৃষ্টি হলেই বন্ধ থাকে পাঠদান। এ হাল রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির খামার মাগুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এ রকম চলতে থাকলে অনেক শিক্ষার্থীই ঝরে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা।

১৯৯৯ সালে রাজবাড়ী শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে সরকারীকরণ হয়। এখন প্রধান ও সহকারীসহ চারজন শিক্ষক আছেন স্কুলটিতে। দুই মাস আগে ঝড়ে টিনশেডের একটি শ্রেণিকক্ষ ভেঙে গেছে। কিন্তু কক্ষটি ঠিক করা সম্ভব হয়নি। ফলে দেখা দেয় শ্রেণিকক্ষ সংকট। এখন একটি কক্ষে অফিসের কাজ ও অন্যটিতে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চলে। আর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলে স্কুল মাঠের পাশে মেহগনি ও নারিকেলগাছের তলায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।

শিক্ষক দীপ্তি বিশ্বাস বলেন, সামান্য বৃষ্টি বা ঝোড়ো বাতাসে বন্ধ থাকে পাঠদান। অন্যদিকে স্কুলে আসা-যাওয়ার একমাত্র রাস্তার অবস্থাও নাজুক। কাঁচা রাস্তাটি বৃষ্টির পানিতে বেশির ভাগ সময়ই থাকে কাদাযুক্ত।

শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস, শারমিন আক্তার, পারুল খাতুন জানায়, এভাবে পড়াশোনা করাটা অনেক কষ্টের।

প্রধান শিক্ষক সিরাজুল হক মণ্ডল জানান, বৃষ্টি অথবা তীব্র রোদে শিশুদের ক্লাস বন্ধ করে দিতে হয়। রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তারা পাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শিশুরা ভেজা কাপড় নিয়ে বাড়িতে ফিরে যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

উপজেলা প্রকৌশলী সজল কুমার দত্ত ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্কুলটি তাঁরা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে কোনো পাকা ভবন নেই। দুই মাসের মধ্যে ভবনের কাজ শুরু হবে বলে জানান তাঁরা।

এ ব্যাপারে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, জেলায় ৪৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। যার মধ্যে ২৬৭টিতেই আছে শ্রেণিকক্ষের সংকট। খামার মাগুড়া স্কুলের শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমোদন এলে পর্যায়ক্রমে স্কুলগুলোতে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।



মন্তব্য