kalerkantho


বেশির ভাগ সময় পানি জমে থাকে

আলফাডাঙ্গা পৌরসভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বেশির ভাগ সময় পানি জমে থাকে

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ নাগরিক জীবন। ছবি : কালের কণ্ঠ

আড়াই বছর আগে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভা গঠিত হয়। অথচ এ পৌরসভায় পাকা সড়ক নেই বললেই চলে। অনেক এলাকায় বছরের বেশির ভাগ সময় পানি জমে থাকে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে না পারলে ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছে এলাকাবাসী। এ অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।

জানা যায়, ২০১৬ সালে ১১ দশমিক ৮৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা (সদর ইউনিয়নের বেশির ভাগ, গোপালপুর ও বুড়াইচ ইউনিয়নের আংশিক) নিয়ে আলফাডাঙ্গা পৌরসভা গঠিত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ পৌরসভার নিজস্ব ভবন নেই। এখানে ভোটারসংখ্যা ১১ হাজার। গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন মো. সাইফুর রহমান সাইফার। ‘গ’ শ্রেণির এই পৌরসভার নাগরিকদের ১০ থেকে ১২ ধরনের সেবা পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন, নাগরিক সনদপত্র, ব্যবসার ছাড়পত্র ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।  

পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিত পৌর কর দিতে হচ্ছে নাগরিকদের। কিন্তু এখানে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। পৌরসভার বেশির ভাগ সড়কই স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জেলা পরিষদের। পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন পাকা সড়কের সংখ্যা কম। শহরের প্রধান সড়কগুলোর কোনোটিরই সংস্কারকাজ হয়নি। বেশির ভাগ সড়কেই যানজট লেগে থাকে। ফুটপাত বলে কিছু নেই। যেটুকু আছে তা-ও ব্যবসায়ীদের দখলে। একটু বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকে পানি। তাই পৌরবাসী এটাকে নামমাত্র পৌরসভা বলে থাকে।

এলাকাবাসী জানায়, পৌর শহরের চৌরাস্তা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় পর্যন্ত আধাকিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া শহরের কোথাও কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই আলফাডাঙ্গা বাজার এলাকা, মালোপট্টি, কুন্ডুপাড়া, নীলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুসুমদী ও শ্রীরামপুর এলাকায় পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। তখন ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি দোকান ও বাসায় ঢোকে। পানি বের হয়ে যাওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য পড়ে থাকে। এসব থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পৌরসভার আধুনিক দুটি বর্জ্য অপসারণের ট্রাক থাকলেও এর ব্যবহার নেই।

মালোপট্টির দুর্গা রানী মালো, নারায়ণ দাস, হাফিজ মণ্ডলসহ বেশ কয়েকজন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মানুষ কষ্টের মধ্যে আছে। অল্প বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ সময় অফিস ও স্কুলে যাওয়াসহ বিভিন্ন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

নীলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার রুবেল মোল্লা, করিম শেখসহ কয়েকজন বলে, যাঁরাই ভোটে দাঁড়ান তাঁরাই বলেন জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হবে। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর আর কোনো কাজ হয় না। আমরা আসলেই বড় অসহায়। কেউ দেখার নেই। এ রকম পরিবেশে বসবাস করা যায় না। আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, পৌর এলাকার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কুসুমদী-বারাসিয়া নদী পর্যন্ত এবং বিশ্বাসপাড়া থেকে কালীমন্দির পর্যন্ত দুটি খাল উদ্ধার ও পুনঃখনন করলে জলাবদ্ধতা সমস্যার সামাধান হতে পারে। 

আলফাডাঙ্গা পৌরসভার সচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের একটি টিনশেড ঘরে পৌরসভার কাজ চলছে। জায়গা স্বল্পতায় দাপ্তরিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি। জনবল  ও অর্থ সংকট থাকায় কাজে ধীরগতি আছে।’

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র সাইফুর রহমান বলেন, ‘অল্প সময় হলো মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছি। সীমিত সামর্থ্যে কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। পৌরসভার ফান্ড সমস্যা আছে। যে বরাদ্দ পেয়েছি তা দিয়ে রাতারাতি সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।’ তিনি আরো বলেন, পৌর ভবন নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, বর্জ্য অপসারণ এবং ড্রেনেজ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ সব উন্নয়নকাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 



মন্তব্য