kalerkantho


জোয়ার এলে সড়ক ডোবে

বিষ্ণুপ্রসাদ চক্রবর্ত্তী, বাগেরহাট   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



জোয়ার এলে সড়ক ডোবে

রূপসা-বাগেরহাট পুরনো সড়কের রহিমাবাদ এলাকায় জলমগ্ন সড়কে জাল ফেলে মাছ ধরছে গ্রামবাসী। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটে ভৈরব নদে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। ভৈরব নদ সংলগ্ন গ্রামের শতাধিক বাড়িঘরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জোয়ারের সময় রূপসা-বাগেরহাট পুরনো সড়কের রহিমাবাদ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। তখন হাঁটুপানির ওপর দিয়ে ওই সড়কে চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করে। পানির ওপর দিয়ে যানবাহন চলতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

ভৈরব নদ ভাঙনের কবলে পড়ে রূপসা-বাগেরহাট পুরনো সড়কের মুচিঘাট ও রহিমাবাদ এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সড়কের বিভিন্ন এলাকা, ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানির চাপে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রহিমাবাদ এলাকায় জোয়ারের পানিতে ভৈরব নদ আর রূপসা-বাগেরহাট পুরনো সড়ক একাকার হয়ে গেছে। সড়কের ওপর দিয়ে পানির স্রোত বইছে। ওই পানিতে মাছও পাওয়া যাচ্ছে। তাই গ্রামের অনেকে সড়কের ওপর জাল ফেলে মাছ ধরছে।

এদিকে হাঁটুপানির মধ্য দিয়ে মহেন্দ্র, ইজি বাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলতে গিয়ে উল্টে যাচ্ছে। জোয়ারের পানি সড়ক উপচে নদসংলগ্ন গ্রামে ঢুকে পড়েছে। তাই দ্রুত জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করা না গেলে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত হয়ে বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

জানা গেছে, ভৈরব নদ ঘেঁষা বাগেরহাট-রূপসা সড়কটি বহু পুরনো। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি সড়ক উপচে গ্রামে ঢুকে পড়েছে। ফলে বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের প্রায় আধাকিলোমিটার এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। তবে ভাটার সময় সড়কের পানি নেমে গেলেও গ্রামের ঘরবাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে থাকে। ভৈরব নদ দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলিমাটি জমে নদের তলদেশ ভরাট হয়ে আছে। এ কারণে জোয়ারে পানি বাড়লেই সড়কে উপচে পড়ছে।

ভৈরব নদ সংলগ্ন সিরাজুল ইসলাম, নাঈম হোসেন, ইমরান হোসেন, আব্দুর রহমান ব্যাপারী, কালাম শেখসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী জানায়, কয়েক দিন ধরে জোয়ারের সময় সড়ক উপচে তাদের গ্রামে পানি ঢুকে পড়ছে। পানিতে তাদের গ্রামের ঘরবাড়ি ডুবে আছে। গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। তাদের মৎস্যঘের, ফসলি জমি ও গাছপালা পানিতে নিমজ্জিত। জোয়ারের সময় রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হয়। তখন অনেকেই সড়কে জাল ফেলে মাছ ধরে। তারা দ্রুত পানি থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।

ওই সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালক আলম শেখ, ইদ্রিস আলী ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, জোয়ারের সময় রহিমাবাদ এলাকার সড়কে হাঁটুপানি থাকে। ওই পানির মধ্য দিয়েই তাঁদের যানবাহন চালাতে হচ্ছে। অনেক সময় পানির মধ্যে উল্টে পড়ে যাত্রীরা আহত হচ্ছে। এতে তাঁদের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর পরও বাধ্য হয়ে ওই সড়ক দিয়ে তাঁদের যানবাহন চালাতে হচ্ছে।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মতিন জানান, ভৈরব নদে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তাঁর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের শতাধিক পরিবার এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির কারণে রাস্তা ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে নদীভাঙনের কবলে পড়ে রূপসা-বাগেরহাট পুরনো সড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সরকারের সহায়তা দরকার।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, ওই সড়কের ভাঙনকবলিত দুটি পয়েন্টে অস্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে।

বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, রূপসা-বাগেরহাট পুরনো সড়ক উঁচু করার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, পলিমাটি জমে ভৈরব নদ ভরাট হওয়ায় জোয়ারের সময় পানি উপচে সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ওই গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাই নদ ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের সব খাল খননও করা হবে।

 



মন্তব্য