kalerkantho


আশ্বাসে আটকা বগুড়ার উন্নয়ন

লিমন বাসার, বগুড়া   

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



আশ্বাসে আটকা বগুড়ার উন্নয়ন

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলাওয়ারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে পড়েছে বগুড়া। পর পর দুই দফা ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদের এখন শেষ সময়। তাই এই অঞ্চলের মানুষের কাছে দলটির নেতাকর্মীরা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে দলের ভোট কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।

আওয়ামী লীগ বগুড়া থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে একটিও আসন না পেলেও ২০০৮ ও ২০১৩ সালের নির্বাচনে সাতটির মধ্যে দুটি আসনে জয়লাভ করে। এরপরও কেন উন্নয়ন বৈষম্য? সাধারণ মানুষের অব্যাহত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ ও ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে ২২টি প্রস্তাব হস্তান্তর করেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন। এতে বলা হয়, আগামী দিনে বগুড়ার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করা গেলে আরো তিনটি আসনে আওয়ামী লীগ নিশ্চিত বিজয়ী হবে।

আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি এসব ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী এগুলো বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিএনপি সরকারের শাসনামলে বগুড়ার কিছুু উন্নয়ন হলেও হাজার হাজার মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়েছে। বনানী-মাটিডালি সড়ক সম্প্র্রসারণ এবং অনেক প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। তাদের পুনর্বাসনে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা করা হয়নি। বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন, দখলবাজি, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে বহু মানুষ। এসব নানা কারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আর বগুড়ার যথাযথ উন্নয়ন হলে আগামী নির্বাচনে জেলায় ভোটের হিসাব সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘বগুড়ার উন্নয়ন যে হয়নি, কথাটা সঠিক নয়। তবে বগুড়াবাসীর কিছু দাবি আছে। সেসব দাবিই নেত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। কিছু কিছু তিনি বাস্তবায়ন করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।’

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা, বিমানবন্দর চালু, শহরের করতোয়া নদী দখলমুক্ত করে পুনর্খনন, প্রস্তাবিত টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপন, নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ, ছেলে ও মেয়েদের জন্য দুটি সরকারি বিদ্যালয় ও বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ রেলপথ স্থাপন, শহর থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত পৃথক সড়ক নির্মাণ, বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন নির্মাণ, সাংবাদিকদের আবাসন প্রকল্প করা, আজিজুুল হক কলেজে সাংবাদিকতা বিষয়ে কোর্স চালু, আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন, এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা, কৃষি মেশিনারি শিল্পের বিকাশে পৃথক জোন করা, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও লাইব্রেরি স্থাপন, উডবার্ন লাইব্রেরি চালু ও আধুনিকায়ন, মহাস্থানগড়কে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা, নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যমুনা নদীখনন, বগুড়া আবহাওয়া অফিসের আধুনিকায়ন, হার্ট ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার ও সারিয়াকান্দিতে ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপন করা।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বগুড়ায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ রেলপথ স্থাপন, শহর থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত পৃথক সড়ক নির্মাণকাজের তৎপরতা শুরুর কাজ চলছে। অন্যগুলোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এখনো আসেনি।

বগুড়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তি তৌফিক হাসান ময়না জানান, বগুড়াবাসী মনে করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার তার দীর্ঘ শাসনামলে জেলার উন্নয়নে নজর দেবে। সম-উন্নয়ন করবে। কিন্তু হয়েছে উল্টো।

বগুড়ার নারুলী এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আলমগীর কবির বলেন, ‘ভাই, আপনারা আমাদের এলাকায় এসে দেখেন রাস্তাঘাটের কী করুণ অবস্থা!’ গাবতলীর বাগবাড়ীর বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিন বলেন, বাগবাড়ীর রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটা দিয়ে চলাচল করাই দায়। একই অবস্থা অন্য এলাকার সড়কেরও।

জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, ‘এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। একসময় বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি হলেও এখানে আওয়ামী লীগ অনেক ভোট পেয়েছে। তাহলে তারা কেন উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হবে?’

ক্ষমতাসীন দলের একজন উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। এখনই এ ব্যাপারে নেত্রী (শেখ হাসিনা) নজর না দিলে আগামী নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। আমরা মানুষের কাছে যেতে পারব না।’

বগুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর ব্যাপারে একটি প্রস্তাব অনেক আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখনো এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেলেনি। বিমানবন্দরটি বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ স্কুল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

 



মন্তব্য