kalerkantho


অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে টঙ্গীর বেশির ভাগ তুলা কারখানা

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে টঙ্গীর বেশির ভাগ তুলা কারখানা

টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের মিলগেট এলাকায় দুই শতাধিক তুলা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় চব্বিশ ঘণ্টা মেশিন চলে। যান্ত্রিক ত্রুটি, অসাবধানতা ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটসহ বিভিন্ন কারণে প্রায়ই এখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কিন্তু কারখানাগুলোতে অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলায় কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ফলে কারখানা এলাকায় আগুন লাগলেই জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

কারখানা স্থাপনের পূর্বশর্ত হিসেবে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানোর সুব্যবস্থা থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ কারখানায় দুর্ঘটনা মোকাবেলায় বিজ্ঞানসম্মত কোনো ব্যবস্থা নেই।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্রে জানা যায়, শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ তুলা কারখানায় অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। হাতে গোনা দু-একটি কারখানায় এ ব্যবস্থা থাকলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল নেই। ফলে কারখানাগুলো বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে।

বড়বাড়ী এলাকার শ্রমিক শাহানা আক্তার বলেন, ‘তাঁদের কারখানার সিঁড়ি সংকীর্ণ। ছুটির সময় ঠেলাঠেলি করে বের হতে হয়। সব সময় গেটে তালা দেওয়া থাকে। এ অবস্থায় আগুন লাগার কথা শোনা গেলে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। এ ছাড়া তাঁদের কারখানায় কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ফলে আগুন লাগলেই জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।’

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, ‘কারখানা আইন অনুসারে সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলার জন্য নিজস্ব পানির রিজার্ভ ট্যাংক থাকা আবশ্যক। কিন্তু অনেক কারখানায় তা নেই। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকাগুলোতেও পুকুর নেই বললেই চলে। প্রাকৃতিক আধারের অভাবে বিভিন্ন সময় মারাত্মক পানি সংকটে পড়তে হচ্ছে। আমাদের পানিবাহী গাড়িগুলো সাড়ে চার হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার লিটার পর্যন্ত পানি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন। শিল্পকারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে গাড়িগুলো ৩০-৪০ মিনিট পর্যন্ত পানি সরবরাহ করতে পারে। এরপর পানির আধারের প্রয়োজন হয়। তাই অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে পানির চাহিদা মেটানোর ব্যাপারে আমাদের সহায়তার পাশাপাশি নানা বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’

 



মন্তব্য