kalerkantho


হুমকির মুখে নড়িয়াবাসী

পদ্মায় ভয়াবহ ভাঙন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গত বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন। গত সাত দিনে জাজিরা উপজেলার কুণ্ডের চর এবং নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ও কেদারপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে নড়িয়া উপজেলা সদর, মুলফত্গঞ্জ বাজার, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি খাদ্যগুদাম, পৌর ভবনসহ অনেক স্থাপনা। ফলে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে পদ্মাপারের হাজার হাজার মানুষের। এসব এলাকার লোকজন দিনরাত তাদের বসতঘর, আসবাবপত্র, গবাদি পশু ও গাছপালা কেটে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পদ্মার দক্ষিণ পারে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ হলেও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কোনো কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না।

ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী জানায়, সত্তরের দশক থেকে নড়িয়া ও জাজিরা এলাকায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কুণ্ডের চর, মোক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভাসহ বিরাট একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ হাট-বাজার, মসজিদ-মাদরাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ বাস্তবায়িত না হলে এবং নদীর স্রোত পরিবর্তন না হলে বর্ষা মৌসুমেই সরকারি-বেসরকারি প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বছরও বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। হুমকির মুখে রয়েছে নড়িয়া উপজেলা সদর, মুলফত্গঞ্জ বাজার, উপজেলা হাসপাতাল, সরকারি খাদ্যগুদাম, নড়িয়া পৌর ভবন, সাহেবের চর এলাকা, চরনড়িয়া ও সুরেশ্বর বেড়িবাঁধের একাংশ। এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে নড়িয়া উপজেলাকে বাঁচাতে পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত নির্মাণের দাবি জানায়।

এদিকে স্রোতের গতি পরিবর্তনের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় মাত্র তিন কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বুধবার থেকে ভাঙনকবলিত নড়িয়া এলাকায় জিও ব্যাগে বালু ভরে ওই এলাকায় নদীর স্রোতের গতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তবে গত তিন দিনেও তাতে কোনো ফায়দা হয়নি। ভাঙনকবলিত এলাকার ডালিয়া বেগম বলেন, ‘নদীভাঙনে বাপ-দাদার ভিটামাটি সব হারালাম। কোনো মালামাল সরানোরও লোক পাই না। সব কিছু ফেলে জীবন নিয়ে চলে যাচ্ছি। আমাদের দেখার কেউ নেই।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার থেকে ২৫০ কেজির জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনের তীব্রতা কমানোর চেষ্টা চলছে। পদ্মার স্রোতের তীব্রতা এত বেশি যে এখনো তেমন কোনো ফায়দা হয়নি। জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ‘প্রতিবছরই এ এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে তাত্ক্ষণিকভাবে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য পত্র পাঠাই। মাত্র তিন কোটি টাকা পাওয়া গেছে। গত বুধবার থেকে ওই টাকা দিয়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। আরো কিছু বরাদ্দ চেয়ে নতুন চিঠি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

 



মন্তব্য