kalerkantho


সাভারের গেণ্ডা সড়ক

খোঁড়াখুঁড়িতে বেহাল

তায়েফুর রহমান, সাভার (ঢাকা)   

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



খোঁড়াখুঁড়িতে বেহাল

যে এলাকায় সাভার পৌরসভার ভবন বা কার্যালয় অবস্থিত সেই গেণ্ডা এলাকাতে প্রবেশের প্রধান সড়কটির অবস্থা শোচনীয়। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়কটিতে গত ১০ বছরেও কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। ফলে সড়কের পুরোটা অংশেই খানাখন্দে ভরে গেছে। পিচঢালা পথ হলেও এখন আর পিচের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

এলাকার বাসিন্দা খন্দকার ম. হামিদ রনজু বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা বা ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যায়। তখন শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে পারে না। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পরেও পাঁচ-সাত দিন সড়কে পানি জমে থাকে। সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কে বড় বড় গর্ত। এ ছাড়া যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সড়কের পরিবেশ হয়েছে বিষাক্ত।’ এদিকে প্রায় ১০ মাস আগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার গেণ্ডা বাসস্ট্যান্ড থেকে পুকুরপাড় পর্যন্ত ড্রেনের পাইপলাইন বসানোর জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা হলেও তা আর মেরামত করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকাবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। গেণ্ডা বাসস্ট্যান্ড হয়ে গেণ্ডামুখী সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন উল্টে হাত-পা ভাঙছে যাত্রীদের। এ সড়কে পানি জমে থাকায় ও ভাঙাচোরার কারণে রিকশা-অটোরিকশা পর্যন্ত চলাচল করতে চায় না। কেউ রাজি হলেও যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয় দ্বিগুণ। সড়কের এই দশার কারণে রাতের বেলায় চলাচল করা আরো বিপজ্জনক। কারণ সড়কে সড়কবাতি নেই। এ ছাড়া গেণ্ডায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বৃহৎ কাঁচামালের পাইকারি বাজার থাকায় সাধাপুর ও চাকুলিয়া এলাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন কাঁচামাল ও শাকসবজি বাজারে নিয়ে আসে কৃষকরা। রাস্তার দুরবস্থার কারণে বাজারে মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষক ও ব্যবসায়ীদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। আব্দুস সালাম নামে গেণ্ডা এলাকার একজন বাড়িওয়ালার অভিযোগ, ‘রাস্তার এই বেহালের কারণে আগে যে বাসা মাসে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া দিতে পারতাম এখন সেই বাসা কেউ পাঁচ হাজার টাকায়ও ভাড়া নিতে চায় না। অনেক ভাড়াটিয়া রাস্তার দুরবস্থার কারণে এবং বাচ্চাদের স্কুলে যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আয়নাল হক গেদু বলেন, ‘এলাকাবাসীর একটু কষ্ট হচ্ছে। কারণ রাস্তায় ড্রেনের পাইপ বানানো হচ্ছে। পাইপ বসানোর পর রাস্তা সংস্কার করা হবে। তখন আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’



মন্তব্য