kalerkantho


ওসির কক্ষে গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ

নান্দাইলে ছাত্রলীগের চার নেতা গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



‘ভাইয়ে পাঠাইছে গত ঈদের বোনাসের পাওনা ২০ হাজার টাকা দিতে। আর দেরি করলেই আমরা চারজনরে আরো ৫০ হাজার করে দুই লাখ দিতে হবে’—নান্দাইল থানার ওসির কক্ষে বসে তাঁকে এসব কথা বলছিলেন ছাত্রলীগের চার নেতা। তাঁরা কি বলছেন—ওসি বুঝতে পারছিলেন না! হতবিহ্বল ওসির সম্বিত ফেরে যখন ওই চারজন হুমকি-ধমকি আর চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। তখন অন্য কর্মকর্তারা ছুটে এসে চারজনকে আটক করেন।

গতকাল রবিবার সকালে এ ঘটনার পর নান্দাইল থানার ওসি এভাবেই সেটা বর্ণনা করেন।

খবর পেয়ে ময়মনসিংহ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল অতিরিক্ত পুলিশসহ থানায় এসে ওই চার নেতাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। ডিবি দলের সঙ্গে ছিলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাখের হোসেন সিদ্দিকী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম নিজে এ ঘটনাটি তদারক করছেন।

এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী নান্দাইল থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নান্দাইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হাসান রয়েল, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি রাজু আহম্মেদ, পৌর শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি টিটু চন্দ্র দে ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য কামরুল হাসান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কথিত ওই ভাই হলেন নান্দাইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলম ফয়সাল। তিনি নান্দাইল পৌরসভার পাঁচপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম লাল মিয়ার ছেলে।

ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, গতকাল সকাল ১১টার দিকে ওই চার নেতা তাঁর কার্যালয়ে প্রবেশ করে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল আলম ওরফে ফয়সালের কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি ওই নেতাকে চেনেন না বলে জানান। তাঁর (ওসি) সঙ্গে ওই নেতার কোনো লেনদেন নেই বলে জানালে চারজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর প্রতি নানা ধরনের মন্তব্য করতে থাকেন। তিনি তাঁদের ফয়সালকে থানায় আসতে বলার জন্য বলেন। কিন্তু তাঁরা তাঁদের হাতেই টাকা দিতে চাপাচাপি করতে থাকেন। একপর্যায়ে ফয়সাল মোবাইল ফোনে তাঁকে (ওসি) বলেন, ‘ভালোয় ভালোয় টাকা দেন অন্যথায় আমার হাতে অনেক অস্ত্র আছে। খবর করে দিব।’

ওসি বলেন, ছাত্রলীগের ওই চার নেতাকে থানায় বসিয়ে তিনি ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।

জানা গেছে, ডিবির দলটি ওসির কক্ষে আটক ছাত্রলীগের চার নেতাকে কড়া নিরাপত্তায় জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তবে এর আগে চার নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা থানায় আসেন।

পৌরসভার পাঁচপাড়া মহল্লায় সরকারি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবন নির্মাণ ঠিকাদারের কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ঠিকাদার মো. ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পরে তিনি তদন্ত চাননি বলে তা প্রত্যাহার করে নেন। ওই লিখিত অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালসহ বেশ কয়েকজনের নাম ছিল।

নান্দাইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান রিপন বলেন, ‘কী ঘটেছে তা ভালোভাবে বোঝা যায়নি। তবে ওই চারজন জড়িত কি না তা এখনো পরিষ্কার নয়।’

 



মন্তব্য