kalerkantho


যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় গোয়ালন্দে যুবককে হত্যা

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বন্ধুর ভাগ্নিকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করেছিলেন রুমান। এই ‘অপরাধে’ কাঠের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের কাটাখালী বাজারে। এর পর থেকে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

রুমান চর আন্ধারমানিক গ্রামের মো. আবুল কালাম মুহুরির ছেলে। অভিযুক্ত বখাটে রাসেল তেনাপচা গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে। পুলিশ রুমানের লাশ উদ্ধার করে গতকাল রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে রুমানের বন্ধু পলাশের (ছদ্মনাম) ভাগ্নিকে যৌন হয়রানি করছিল রাসেল। কয়েক দিন আগে মেয়েটিকে অপহরণেরও হুমকি দেয় সে। বিষয়টি জেনে রুমান ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু প্রতিবাদ জানায়। এতে রুমানের সঙ্গে রাসেলের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন বিকেলে পলাশ মোবাইল ফোনে রাসেলকে বলেন, তাঁর ভাগ্নিকে যেন যৌন হয়রানি করা না হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল তাঁকে বলে, ‘তোরা কাটাখালী বাজারে আয়, আমি সাক্ষাতে কথা বলব।’ এ কথায় পলাশ এবং তাঁর দুই বন্ধু ইমন গাজী ও আকাশ খান বাজারে যান। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল রাসেল ও তার লোকজন। তারা তিন বন্ধুকে বেদম লাঠিপেটা করে। খবর পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান রুমান। তাঁকে দেখে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রাসেল। এ সময় কাঠের বাটাম দিয়ে রুমানের মাথায় আঘাত করে সে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে রাসেলরা পালিয়ে যায়। তারা চার বন্ধুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুমানকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে লাশ উদ্ধার করে। পরদিন সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রুমানের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

 



মন্তব্য