kalerkantho


অস্ত্রোপচারের পর নার্সসহ দুই প্রসূতির মৃত্যু

ভুল চিকিৎসার অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর

দিনাজপুর ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রচুর রক্তক্ষরণে হাসপাতালটির এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে নবজাতকটি (মেয়ে) সুস্থ রয়েছে।

মৃত মোছা. শিল্পী বেগম (৩৪) দিনাজপুর শহরের নিমনগর বালুবাড়ী মহল্লার সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

এর আগে ১৩ জুন একই কারণে দিনাজপুর শহরের আল মদিনা নার্সিং হোমে হুসনেয়ারা বেগম (২৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি চিরিরবন্দর উপজেলার কালিতলা গ্রামে।

গত ৯ জুন ভোরে প্রসবব্যথা শুরু হলে সিনিয়র স্টাফ নার্স শিল্পী বেগম দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। সকাল ১০টার দিকে তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন গাইনি ওয়ার্ডের কনসালট্যান্ট ডা. ইশরাত শারমীন। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হলে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. জাহানারা বেগম মুন্নির অধীনে ভর্তি করা হয়। প্লাসেন্টিয়া প্রিভিয়ার (জরায়ুর সঙ্গে ফুল জড়িয়ে যাওয়া) সমস্যা দেখা দেওয়ায় ওই দিনই আবার অস্ত্রোপচার করে শিল্পীর জরায়ু কেটে ফেলা হয়। সেলাই করা হয় কেটে যাওয়া টেনডিন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থার আরো অবনতি হলে ১৪ জুন সন্ধ্যায় বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডা. ইশরাত শারমীনের মোবাইল ফোনটি দুই দিন ধরে বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বেসরকারি চন্দ্রগঞ্জ রয়েল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মরিয়ম বেগমের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত রবিবার সকালে মৃতের স্বজনরা বিক্ষোভ ও হাসপাতালে ভাঙচুর করে। তারা হাসপাতালে তালা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধও করে রাখে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের মালিক, চিকিৎসকসহ অন্যরা পলাতক।

মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রসবব্যথা হলে মরিয়মকে শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসক সোলেমানের তত্ত্বাবধানে তাঁকে সিজার করা হয়। সন্তান প্রসব হলেও চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় রোগীর কলিজায় ছিদ্রসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে মরিয়ম মারা যান। স্বজনদের কিছু বুঝতে না দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কৌশলে তাঁকে ঢাকায় নিতে বলেন চিকিৎসকরা। রবিবার সকালে ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে ওঠাতে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন স্বজনরা।

তবে চিকিৎসক সোলায়মান বলেন, ‘চিকিৎসায় আমাদের কোনো অবহেলা ছিল না। রোগীর স্বজনরা ভুল বুঝে উত্তেজিত হয়েছে।’

চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আহম্মদ বলেন, ‘প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। বিক্ষোভ ও হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। তবে শুনেছি রোগীর স্বজনরা বিষয়টি মীমাংসা করে নিয়েছেন।’

 



মন্তব্য