kalerkantho

মনোনয়ন দৌড়

আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



মনোনয়ন দৌড়

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর-চিলমারী আংশিক) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ করছেন। ঈদের পর চলছে বিভিন্ন স্থানে শুভেচ্ছা বিনিময়। দলীয় প্রধানের ছবিসংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। ফেসবুকে পছন্দের প্রার্থীর প্রশংসা করে স্ট্যাটাস দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া মনোনয়ন পেতে নির্বাচনী এলাকাসহ দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে প্রার্থীরা যোগাযোগ করছেন। অনেকে নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে গত রমজানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। বর্তমানে উপজেলার সর্বত্রই চলছে নির্বাচনী আমেজ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সব খানে চলছে পছন্দের প্রার্থীর গুণগান।

এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও রংপুরের প্রাইম মেডিক্যাল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আক্কাছ আলী সরকার। তাঁর নাম ঘোষণা করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। দলীয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য গত ১০ জুন উলিপুর সফরও করেন এরশাদ। ওই দিন আয়োজিত জনসভায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রায় সব শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তীব্র গরম উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের ঢল নামে জনসভায়। তবে আক্কাস আলীকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় জাতীয় পার্টির একটি অংশসহ সুধীমহলে রয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। এর আগে এরশাদ, তাঁর ছোট ভাই মোজাম্মেল হক লালু ও মাওলানা মতিউর রহমান জাপার টিকিটে নির্বাচনে জিতলেও তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এ কারণে জাপা প্রার্থীদের প্রতি অনীহা রয়েছে অনেক ভোটারের। তবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলককাজে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করে আসছেন ডা. আক্কাস। তাই তাঁর ব্যাপারে ভোটারদের আগ্রহ রয়েছে।

ডা. আক্কাছ বলেন, ‘উলিপুরে লাঙলের দুর্গকে কেউ ভাঙতে পারবে না। আমি নির্বাচিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রতিটি মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার চেষ্টা করব।’

১৯৯১ সালের পর থেকে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে না পারায় হতাশা রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেই নির্বাচনে আমজাদ হোসেন তালুকদার ছিলেন বৃহত্তর রংপুরের ২২টি আসনের একমাত্র আওয়ামী লীগের। তবে আগের মতো আর তাঁর জনপ্রিয়তা নেই। তাঁর ছেলে সাজেদুর রহমান তালুকদার উঠতি নেতা হিসেবে কিছুটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দলের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক এম এ মতিন। যিনি মতিন কারিগরি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও দলের জনপ্রিয় নেত্রী প্রয়াত অধ্যক্ষ নাসিমা বানুর স্বামী। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি জনসংযোগ করছেন।

অধ্যাপক মতিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে উলিপুরের মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। তারা চায়, স্থানীয় একজন পছন্দের মানুষ। যিনি সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকবেন। আমাকে মনোনয়ন দিলে একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে উলিপুরের মানুষের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করব।’

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতি শিউলী। তবে মহাজোটের কারণে আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। এবার তিনি মনোনয়ন চাইছেন। নানা কারণে আগের মতো তাঁর জনপ্রিয়তা না থাকলেও তিনি শক্ত মনোনয়নপ্রত্যাশী।

মতি শিউলি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে জরিপ করে মনোনয়ন দিলে লাঙলের দুর্গ ভেঙে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এ আসন উপহার দিতে পারব।’ এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মনটু, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সরকার ও অধ্যক্ষ আহসান হাবীব রানা পোস্টার ও বিলবোর্ড টাঙিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা বলেন, ‘আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না।’

আওয়ামী লীগ সূত্র নিশ্চিত করেছে, কেউ মনোনয়ন চাইবেন না। শেষ পর্যন্ত আসনটি উন্মুক্ত থাকবে নাকি জাপাকে ছেড়ে দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে জনসংযোগ এবং লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গত ১০ জুন নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। কুড়িগ্রাম-৩ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হলেও এই উপনির্বাচন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সীমানা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ববর্তী সীমানা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম-৩ আসনের বর্তমান ভোটার সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ৬৬ হাজার ৮১১ জন। আসনটিতে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়ন ছাড়া বাকি অংশ এবং চিলমারী উপজেলার রমনা, থানাহাট, চিলমারী ও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত। গত ১১ মে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এ কে এম মাইদুল ইসলামের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৪ জুন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ। ২৬ জুন মনোনয়নপত্র বাছাই ও ৩ জুলাই প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামী ২৫ জুলাই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 



মন্তব্য