kalerkantho


দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি পারাপার

টিকিট মূল্যের বেশি আদায়

গণেশ পাল, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)   

১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



টিকিট মূল্যের বেশি আদায়

দেশের অন্যতম ব্যস্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরির স্থানীয় (লোকাল) যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিআইডাব্লিউটিসির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট টিকেটিং এজেন্ট ‘মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডার্সের’ লোকজন এ টাকা আদায় করছে। প্রতিদিন তারা হাজার হাজার যাত্রীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে প্রতিদিন বিভিন্ন গাড়িসহ হাজার হাজার যাত্রী ফেরি পারাপার হয়। এর মধ্যে লোকাল যাত্রীসংখ্যা (উভয় ঘাটে) ২৬০০ থেকে ৩০০০। ঈদের সময় এই যাত্রীসংখ্যা আরো বাড়ে। এখানে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা এলাকার ‘মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডার্স’ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিআইডাব্লিউটিসির অনুমোদিত ‘টিকেটিং এজেন্ট’। কয়েক বছর ধরে এই এজেন্টের লোকজন দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি যাত্রীদের (লোকাল) কাছে ‘যাত্রীভাড়ার টিকিট’ বিক্রি করে আসছে। উভয় ঘাটসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি পারাপারে বিআইডাব্লিউটিসি অনুমোদিত প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিজন যাত্রীর ভাড়া ২৫ টাকা। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন লোকাল যাত্রীদের হাতে ২৫ টাকা মূল্যের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে ৩০ টাকা করে আদায় করছে। কোনো যাত্রী অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাইলে সংশ্লিষ্ট ‘টিকিট কালেক্টররা’ যাত্রীদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করে।

গোয়ালন্দ পৌর এলাকার ব্যবসায়ী সুজন হালদার জানান, গত শনিবার রাতে ঢাকা থেকে তাঁর এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। নৌপথ পাড়ি দিতে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে তাঁরা শিবালয় থানার পাটুরিয়ার ২ নম্বর ফেরিঘাটে যান। সেখানে কর্মরত একজন ‘টিকিট কালেক্টর’ ৬০ টাকা নিয়ে ২৫ টাকা মূল্যের দুটি টিকিট সুজনের হাতে ধরিয়ে দেয়। টিকিটের গায়ে লেখা রয়েছে, ‘বিআইডাব্লিউটিসি ফেরি সার্ভিস, টিকেটিং এজেন্ট : মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডার্স, ভাড়া ২৫ টাকা।’ এ সময় টিকিটের মূল্য রেখে বাকি ১০ টাকা ফেরত চাইতেই সুজনকে টিকিট কালেক্টর বলেন, ‘কোনো প্যাচাল না পাইরা সরাসরি ফেরিতে গিয়ে ওঠেন। কোনো ঝামেলা কইরেন না।’ পরে ঝামেলা এড়াতে অতিরিক্ত টাকা দিয়েই ফেরিতে ওঠেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিবালয় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম খান আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী সব ফেরির লোকাল যাত্রীর টিকেটিং এজেন্ট মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডার্সের মালিক তিনি। এ ছাড়া বহুবিধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়ায় রহিম খান শিবালয় থানা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ সুযোগে তাঁর টিকেটিং এজেন্টের লোকজন বিআইডাব্লিউটিসির স্থানীয় অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকার নির্ধারিত ২৫ টাকার টিকিট ৩০ টাকায় বেচে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডার্সে কর্মরত একজন টিকিট কালেক্টর নাম না প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, দৌলতদিয়া থেকে প্রতিদিন (২৪ ঘণ্টা) ঢাকামুখী ১৩০০ থেকে ১৫০০ লোকাল যাত্রী ফেরি পারাপার হয়। যাত্রী টিকিট বিক্রির কাজে উভয় ঘাট এলাকায় শতাধিক লোক রয়েছে। তারা সবাই দুই শিফটে পালাক্রমে টিকিট বিক্রির কাজ করেন।

বিআইডাব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘টিকিট বিক্রির নামে ফেরিযাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অনৈতিক ও বেআইনি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট টিকেটিং এজেন্টের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডার্সের মালিক আব্দুর রহিম খাঁনের সঙ্গে কথা বলতে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।



মন্তব্য