kalerkantho


ম্যাজিস্ট্রেট, শিক্ষা কর্মকর্তা, ওসির উপস্থিতিতে নির্বাচন

ঠুনকো অভিযোগে বাতিল

শ্রীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার শ্রীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন আবু বকর সিদ্দিকি। এর পরও স্বচ্ছতার জন্য ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোটের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনে পড়া আটটি ভোটের মধ্যে সাতটিই পান সিদ্দিকি। পরে তাঁকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় অবাক করে ঠুনকো কারণ দেখিয়ে (চারজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচন যথাযথ না হওয়ার অভিযোগ) সভাপতি পদে সিদ্দিকিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। উল্টো আহ্বায়ক কমিটি করে নতুন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা আছে বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী এমন এক সদস্য টাকা খরচ করে এ সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছেন কমিটিকে।

শ্রীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি পদে নির্বাচন হয় গত ১৫ মে। এর আগে চারজন অভিভাবক সদস্যের নির্বাচন হয়। চারজন নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য, এমপি মনোনীত দুজন বিদ্যোৎসাহী সদস্য, একজন দাতা সদস্য, একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রতিনিধি এবং প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জনকে নিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অন্য দুই শিক্ষক প্রতিনিধি ছাড়া বাকিদের মধ্য থেকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। গোপন ভোটে বা সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত করা যায়।

বিদ্যালয়টির সভাপতি পদে তফসিল ঘোষণার পর একমাত্র আবু বকর সিদ্দিকি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। নির্বাচনের (১৫ মে) দুই দিন আগে ১৩ মে বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য আবুল বাশারসহ ২০-২৫ জন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও দপ্তরিকে মারধর করে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ঘিওর থানায় একটি জিডি করেন এবং বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেন। অভিযোগ, আবুল বাশার নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। ঘোষিত তফসিল বানচাল হলে তিনি পরের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

কিন্তু ঘিওরের ইউএনও শামিমা খোন্দকারের হস্তক্ষেপে নির্ধারিত ১৫ মে-ই নির্বাচন হয়। অধিকতর স্বচ্ছতার জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানার ওসির উপস্থিতিতে ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোটের আয়োজন করা হয়। ১১টি ভোটের মধ্যে ভোট পড়ে আটটি। আবু বকর সিদ্দিকি ‘হ্যাঁ’ ভোট পান সাতটি। দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা সামিয়া ফল ঘোষণা করেন এবং বিভিন্ন স্থানে তা টাঙিয়ে দেন। কিন্তু গত সোমবার ঘিওর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় শ্রীবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিকে অনুমোদন না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে নতুন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঘিওর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নাজনীন আলম বলেন, অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচন নিয়ে আপত্তি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কে আপত্তি তুলেছেন, এ প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান। আপত্তি থাকলে কেন নির্বাচন হলো, এ প্রশ্নেরও সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

আবু বকর সিদ্দিকি অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্যের মনোনীত বিদ্যোৎসাহী সদস্য আবুল বাশার ষড়যন্ত্র করে এ সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছেন। তাঁকে সহায়তা করছেন ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য আবদুল আলী মিন্টু। মিন্টু অ্যাডহক কমিটি প্রস্তাব করায় ভয়ে অন্যরা প্রতিবাদ করতে পারেনি। সিদ্দিকি বলেন, উপজেলা শিক্ষা কমিটির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন। অভিযুক্ত আবুল বাশার বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের জিডি ও অন্য শিক্ষকদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের বিষয়টি স্বীকার করেন।

আবদুল আলী মিন্টু বলেন, পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়াটি যথাযথ হয়নি বলে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি কারো পক্ষে কাজ করছেন না। প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ ও শিক্ষকদের জীবনের নিরপাত্তা চাওয়ার বিষয়কে ‘সাজানো’ বলেন তিনি।

ইউএনও কানিজ ফাতেমা বলেন, তিনি উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য হলেও সে দিনের সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি জরুরি কাজের জন্য। ফলে ওই সিদ্ধান্ত তাঁর নয়। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে।


মন্তব্য