kalerkantho


পিরোজপুরে গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতন

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



পিরোজপুরের সাবিনা (১৪) নামের এক গৃহকর্মী ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসায় পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে সে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভর্তির সময় মেয়েটির অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। গত দুই দিনের চিকিৎসায় তার অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তার শরীরে অসংখ্য ক্ষত হয়েছে। হাত ও পায়ে রয়েছে নির্যাতনের চিহ্ন।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ৩ নম্বর বালিপাড়া ইউনিয়নের মৃত মোহাম্মদ দেলোয়ার গাজীর মেয়ে সাবিনা। নির্যাতিতার মা মমতাজ বেগম জানান, অনেক আগে সাবিনার বাবা মারা যান। এরপর তিনি সন্তানদের নিয়ে বিপদে পড়েন। অনেক দিন তাদের না খেয়েও থাকতে হয়েছে। তখন পাশের বাড়ির এক মেয়ে বেশি বেতনের কথা বলে ঢাকায় ওই ব্যবসায়ীর বাসায় সাবিনাকে নিয়ে যায়। ওই ব্যবসায়ীর বাড়িও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। গত দুই মাসে মেয়েটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর তিনি মেয়ের খোঁজে ঢাকায় যান। মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঢাকায় পরিচিত কেউ না থাকায় ওই অবস্থায়ই তাকে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। সাবিনার অবস্থা গুরুতর দেখে গ্রামের লোকজন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের সহায়তায় মেয়েকে খুলনা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। কিন্তু মেয়েটির মধ্য থেকে নির্যাতনের আতঙ্ক এখনো কাটেনি।

নির্যাতিতা সাবিনা বলে, ‘টুকটাক কাজের ভুল ধরে আমার ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালাইত। খালায় (গৃহকর্ত্রী নূরজাহান) প্রায়ই বাথরুমের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ কইরা রাখত। খাইতে দিত না। শরীরের সব জায়গায় মারছে। আমি ভাবছিলাম মারাই যামু। কিন্তু মা নিয়ে আসায় বাইচ্চা গেছি। আমার হাত-পা প্রায় অচল হয়ে আছে।’

জানা গেছে, গ্রামের কিছু লোকজন গৃহকর্তা টুটুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিষয়টি মিটমাট করার জন্য মেয়েটির পরিবারকে সাত লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছেন টুটুল।

এ ব্যাপারে বালিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কবির হোসেন বয়াতি বলেন, ‘এভাবে নির্যাতন করার বিষয়টি দুঃখজনক। শুনেছি মেয়েটির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে ওই নির্যাতনকারীর স্বামী।’

মীমাংসাকারী জাকির গাজী বলেন, ‘মেয়েটির পরিবার খুব অভাবের মধ্যে রয়েছে। মামলা চালানোর ক্ষমতাও তাদের নেই। তাই পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিলে মেয়েটির একটা ভবিষ্যৎ করে দেওয়া যাবে। সে চেষ্টাই করা হচ্ছে।’



মন্তব্য