kalerkantho


ছাত্রলীগ-কাউন্সিলর সমর্থক সংঘর্ষ

সাভারে আহত ১০ : ফাঁকা গুলি, ৫ মোটরসাইকেলে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



সাভারে ছাত্রলীগ ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় পাঁচটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার রাতে সাভার পৌর এলাকার কাতলাপুর মহল্লায় ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার মিয়ার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। সাভারে সড়ক ও জনপথের (সওজ) জমিতে নির্মিত বাজার থেকে চাঁদা আদায় এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সওজের জমিতে নির্মিত অবৈধ বাজার থেকে চাঁদা আদায় নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সমর্থকদের দ্বন্দ্ব চলছে। রবিবার বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতান তাঁর লোকজন নিয়ে উলাইল বাজারে চাঁদা আদায় করতে যান। তখন কাউন্সিলরের নির্দেশে ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাউন্সিলরের লোকজন টিপুকে মারধর করে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাত ১১টার দিকে ১০-১২টি মোটরসাইকেল নিয়ে কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা চালায়। আশপাশের লোকজনকে মারধর করায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। কাউন্সিলরের নাতি আসিফ ও তাঁর সহযোগীরা এগিয়ে এলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় আহত হয় অন্তত ১০ জন। একপর্যায়ে পিছু হটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তাদের ফেলে যাওয়া পাঁচটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কাউন্সিলরের সমর্থকরা। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও হামলায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার উলাইল বাজারে দোকানিরা দোকানপাট বন্ধ করে রাখে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পৌর কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার বলেন, ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতান মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। তিনি ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিতে নিষেধ করায় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।

সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। তবু নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ওসি মহসিনুল কাদির জানান, এখনো হামলার ঘটনায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য