kalerkantho


কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজ

ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত

‘যে ছাত্রদের পড়ালাম তাদের হাতে মার খেলাম’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



নেত্রকোনার কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক আবদুল কাদেরকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে কলেজের ৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। একাদশ শ্রেণির বর্ষ সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্রলীগ সমর্থিত পরীক্ষার্থীদের অন্যায় সুবিধা না দেওয়ায় তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক। এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ উত্তম কুমার কর বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিকে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে পরীক্ষা স্থগিত ও ক্লাস বর্জন করেছেন শিক্ষকরা। গতকাল দুপুরে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগ নেতা ও ওই কলেজের ছাত্র আপেল মাহমুদ। তাঁর সঙ্গে ছিল মোহন, রনি, মোবারক, আজহারুল, জানুসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজন।

শিক্ষক আবদুল কাদের বলেন, ‘আমি এ কলেজেরই ছাত্র ছিলাম। ছাত্রদের ভালো কিছু দেওয়ার আশা নিয়ে শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ করে এ কলেজে যোগদান করেছি। এই অবস্থায় যে ছাত্রদের পড়ালাম সেই ছাত্রদের হাতে মার খেলাম।’

কলেজের অধ্যক্ষ উত্তম কুমার কর জানান, একাদশ শ্রেণির বর্ষ সমাপনী পরীক্ষা চলছিল। বাংলা পরীক্ষায় নকলের অবারিত সুযোগ দাবি করে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র। ওই ছাত্রদের পাল্লা ভারী করতে ছাত্রলীগ নেতা আপেল মাহমুদ তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ৫ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। বাংলা বিভাগের শিক্ষক আবদুল কাদের পরীক্ষায় কোনো ধরনের অন্যায় সুবিধা দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পরে আপেলের নেতৃত্বে ছাত্ররা পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র কেড়ে নিতে থাকে। এ সময় আবদুল কাদের বাধা প্রদান করলে তাঁকে কক্ষে ফেলে মারধর করে আহত করা হয়। শিক্ষককে মারধর করার দৃশ্য দেখতে পেয়ে পরীক্ষার্থীরা ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় অন্যান্য শিক্ষক, কর্মচারী দৌড়ে নিজেদের রক্ষা করেন। আর ছাত্রলীগ নেতারা পরীক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ উল্টে ফেলে দিয়ে কক্ষ তছনছ করে পরীক্ষা পণ্ড করে দেন। হামলাকারীরা কলেজ ত্যাগ করার সময় দেশীয় অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শন করে কলেজ শিক্ষকদের বাড়াবাড়ি না করতে ভয় দেখায় বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আপেল মাহমুদ জানান, ওই শিক্ষককে কোনো ধরনের মারধর বা লাঞ্ছিত করা হয়নি। পরীক্ষার ফি কমাতে কলেজের মোবারক নামে এক স্যারের কাছে আবেদন করেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রকে কিল-ঘুষি মারলে সব ছাত্র মিলে ওনাকে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। আর অন্যদিকে কলেজের শহীদ মিনার ভেঙে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে ছাত্রদের মনোমালিন্য চলছিল। সব কিছু মিলিয়ে শায়েস্তা করার জন্য অধ্যক্ষ বাদী হয়ে নিরপরাধ ছাত্রদের মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

অন্যদিকে মোহন নামের এক ছাত্রলীগ নেতা পারিবারিক একটি মামলায় সদরে আসেন না দীর্ঘদিন ধরে। এ অবস্থায় তাঁকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী মামলা হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, শিক্ষকের ওপর হামলা এবং তাঁকে লাঞ্ছিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

পরীক্ষা স্থগিত ও ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত : এদিকে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দুপুর ২টার দিকে জরুরি সভায় মিলিত হন কলেজের শিক্ষকরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ উত্তম কুমার কর। আলোচনায় শিক্ষকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান না করা পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত ও ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বক্তব্য দেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রনেন্দ্র চন্দ্র সরকার, কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান ভূইয়া, শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, মাহফুজুল হক, হাফিজুর রহমান তালুকদার, আহম্মদ আব্দুল্লাহ হারুন, এস এম রুবেল, বদিউজ্জামান বকুল, রবিউল হোসেন প্রমুখ।

 

 



মন্তব্য