kalerkantho


বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর

লোড-আনলোড চার্জ চালু, অসন্তোষ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



লোড-আনলোড চার্জ চালু, অসন্তোষ

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পণ্য লোড-আনলোড চার্জ চালু করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পণ্য লোড আনলোড চার্জ বাবদ টনপ্রতি ১০৪ টাকা নির্ধারণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া লোড আনলোডিংয়ের জন্য নতুন ইজারাদারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বন্দর ব্যবস্থাপক কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি চালু হয় ১৯৯৭ সালে। ক্রমান্বয়ে এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। বন্দর চালু হওয়ার পর থেকে ব্যবসায়ীরা শুধু বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য আনলোডিংয়ের জন্য শ্রমিকদের টনপ্রতি ৩২ টাকা করে দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত ৯ মে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ব্যবস্থাপকের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়, আমদানি ও রপ্তানীকৃত সব পণ্য বাংলাবান্ধার অভ্যন্তরে প্রবেশের পর কাস্টমস ছাড়পত্র ইস্যুর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী লোড আনলোড চার্জসহ যাবতীয় বন্দর চার্জ পরিশোধের পর পণ্যের গেট আউট পাস ইস্যু করা হবে।

এ ছাড়া হঠাৎ করে বন্দরের লোড আনলোডের জন্য এটিআই লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারাদার নিয়োগ করা হয়। ইজারাদারের পরিচয়পত্রধারী শ্রমিক ছাড়া কেউ লোড আনলোডিং পরিচালনা করতে পারবে না বলেও ওই আদেশে বলা হয়। সেখানে লোড আনলোডসহ বন্দর চার্জ নির্ধারণ করা হয় টনপ্রতি ১০৪ টাকা (ভ্যাট বাদে)। ১৫ মে থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ লোড আনলোডিং ও বন্দর চার্জ ছাড়া পণ্যের গেটপাস দেওয়া বন্ধ রাখে। নতুন করে এই আদেশ জারি করায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়ায় তাঁরাও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে এর প্রতিবাদ জানান। ১৫, ১৬ ও ১৭ মে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে সব আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। এতে বন্দরে কয়েক শ পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে সংশ্লিষ্ট আদেশের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ নিয়ে ধোঁয়াশায় পড়েন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ইজারাদারের পরিচয়পত্রধারী না হওয়ায় প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করে আসা শ্রমিকরা তাঁদের কাজ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।

এ নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সবশেষ গত ১৭ মে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের জরুরি সভা হয়। সভায় বন্দর ব্যবস্থাপককে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, স্পষ্ট কোনো কাগজ না দেখা পর্যন্ত তাঁরা নতুন আদেশ মানবেন না।

আমদানিকারক মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘যত দিন কর্তৃপক্ষ কাগজ দেখাতে না পারবে তত দিন আমরা আগের মতো আমদানি-রপ্তানি করব। তারা ২০ মে পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা সরকারের নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সরকার যদি সত্যিই এমন কোনো নিয়ম করে থাকে তবে আমরা তা অবশ্যই মেনে নেব।’

আমদানিকারক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর নিয়ে চক্রান্ত চলছে। যে প্রতিষ্ঠানকে লোড আনলোডিংয়ের ইজারা দেওয়া হয়েছে তাদের কাউকে এ পর্যন্ত আমরা দেখতে পাইনি। কর্তৃপক্ষ সুনজর না দিলে এই বন্দর স্থবির হয়ে পড়বে।’

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মো. নাসিম বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের সহযোগিতা করছে না। আমাদের কাছে তারা এখনো লোড আনলোডিং ও বন্দর চার্জের বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেনি। কোনো কাগজও দেখাতে পারেনি। তারা শুধু তাদের মুনাফার কথা ভাবছে।’

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কুলি শ্রমিক আহসান হাবিব বলেন, ‘২০ বছর ধরে বাংলাবান্ধায় কাজ করছি। এখন শুনছি আমাদের নাকি আর কাজ করতে দেওয়া হবে না। ইজারাদারের পরিচয়পত্রধারী শ্রমিকরা কাজ করবে। আমরা এত দিন কাজ করে আসলাম, আমাদের কি কোনো মূল্য নেই?’ বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন বলেন, ‘বন্দর চার্জের টাকা কোথায় যাবে। সরকার পাবে কি না এ বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টি স্পষ্ট করলে আমি মনে করি ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেবে।’

এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মামুন সোবহানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) ও যুগ্ম সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সব বন্দরের জন্য যা নিয়ম বাংলাবান্ধার জন্যও তাই করা হয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী যদি বন্দরে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’



মন্তব্য