kalerkantho


চট্টগ্রামে মৃত নবজাতক জীবিত উদ্ধার কাহিনি

চিকিৎসকদের বাঁচিয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রামে জীবিতটি রেখে মৃত অন্য নবজাতককে দেওয়ার আলোচিত ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. এ এম মুজিবুল হকের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনটি নিয়ে আজ মঙ্গলবার অথবা আগামীকাল বুধবার গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

তবে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল তিন পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় তাতে নগরের বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতাল চাইল্ড কেয়ারের এনআইসিইউয়ের অব্যবস্থাপনাকে মূলত দায়ী করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই দিন কর্তব্যরতদের মধ্যে কয়েকজন নার্স ও কর্মচারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নবজাতকের চিকিত্সায় কোনো ত্রুটি ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, নবজাতকের ‘মৃত্যু সনদে’ মেডিক্যাল অফিসার স্বাক্ষর করেন। তাঁর স্বাক্ষরিত মৃত্যু সনদে লেখা ছিল নবজাতকটি পুরুষ। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নবজাতকের ভর্তির সময় একটি বিশেষ চিহ্ন দেওয়া হলে নবজাতক বদলের ঘটনাটি ঘটত না। যাঁর বাচ্চা তাঁকে দেওয়ার সময় কোনো সমস্যা হতো না। অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এদিকে গতকাল বিকেলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ এবং সদস্যসচিব ও একই হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. শাহ আলম বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. এ এম মুজিবুল হক গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবেদন পেয়েছি। এটি দেখা হচ্ছে। পুরোপুরি না পড়ে এই বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। মিডিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’ জানতে চাইলে চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ফাহিম হাসান রেজা গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কমিটি সময় আরো এক দিন বাড়িয়ে নিয়েছে। আশা করছি, আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) পেয়ে যাব প্রতিবেদন।’

 



মন্তব্য