kalerkantho


বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা

শেরপুরে সেরা নকলার নয়াবাড়ী হাই স্কুল

শেরপুর প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



জোরালো যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও যুক্তি খণ্ডনের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার  শেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ জাতীয় স্কুল বিতর্ক’ প্রতিযোগিতা। শহরের আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুলিশ লাইন একাডেমির ফর ক্রিয়েটিভ এডুকেশন (প্লেস) মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় শহরের সব বিদ্যালয়কে টেক্কা দিয়ে বাজিমাত করেছে প্রত্যন্ত পল্লীতে অবস্থিত নকলা উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়। জেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের মধ্যে অনুষ্ঠিত যুক্তিতর্কের এ লড়াইয়ে তারা সেরা নির্বাচিত হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে।

কালের কণ্ঠ পাঠক সংগঠন শুভসংঘের আয়োজনে সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া প্রাণবন্ত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মো. রফিকুল হাসান গণি। পুলিশ লাইন একাডেমির উপাধ্যক্ষ বিভুতিভুষণ মিত্রের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি সহকারী পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, সাংবাদিক এম এ হাকাম হীরা, শেরপুর ডিস্ট্রিক্ট ডিবেট ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক এস এম ইমতিয়াজ চৌধুরী শৈবাল, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি জোবাইদা খাতুন প্রমুখ। কালের কণ্ঠ শুভসংঘ সহসাধারণ সম্পাদক বিতার্কিক এমদাদুল হক রিপনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠ’র শেরপুর জেলা প্রতিনিধি হাকিম বাবুল।

প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মো. রফিকুল হাসান গণি বলেন, যুক্তির তর্কই হলো বিতর্ক। বিতর্ক একজন মানুষকে যুক্তিবান, প্রজ্ঞাবান, সহনশীল, জ্ঞানবান করে তোলে। জ্ঞান মনের অন্ধকার দূরীভূত করে মানুষের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। মানুষ যত জ্ঞানের চর্চা করবে, সমাজে ততই হিংসা-বিদ্বেষ, অপরাধপ্রবণতা কমবে। এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে। তিনি দেশব্যাপী জাতীয় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন করায় বসুন্ধরা খাতা-কালের কণ্ঠ শুভসংঘকে অভিনন্দন জানান।

উদ্বোধনী পর্বের সভাপতি বিভুতিভুষণ মিত্র বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া স্কুলগুলো হলো সদর উপজেলার সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমি, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নবারুণ পাবলিক স্কুল, আইডিয়াল প্রিপারেটরি অ্যান্ড হাই স্কুল, পুলিশ লাইন একাডেমি ফর ক্রিয়েটিভ এডুকেশন, অনুরণ এক্সক্লুসিভ স্কুল, উত্তরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এবং নকলা উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে সেরা নকলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শেরপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল কাদের, কবি হাসানুজ্জামান শরাফত, শেরপুর ডিস্ট্রিক্ট ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি দেবাশীষ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক এস এম ইমতিয়াজ চৌধুরী শৈবাল, শেরপুর সরকারি কলেজ ডিবেটিং ক্লাবের সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক রিপন, শুভংকর সাহা, এম এ হাকাম হীরা, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি জোবাইদা খাতুন। অনুষ্ঠানে সব প্রতিযোগীকে সনদপত্র, টি-শার্ট ও স্কুলগুলোকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এ ছাড়া উপহার হিসেবে সব প্রতিযোগী ও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় বসুন্ধরা খাতা।

প্রতিযোগিতায় অন্যদের মধ্যে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ শেরপুর জেলা কমিটির উপদেষ্টা জনউদ্যোগ আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, শুভসংঘ সভাপতি মো. শামীম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেলস এক্সিকিউটিভ মো. জাকির হোসেন, সাংবাদিক শরিফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সহযোগিতায় ছিলেন শুভসংঘ ও শেরপুর ডিস্ট্রিক্ট ডিবেট ফেডারেশন সদস্য তানভীর রানা, রিফাত, ফারাভী ও কাউসার।

 


মন্তব্য