kalerkantho


মেহেরপুরে ডাকাতের ভয়

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



মেহেরপুর পৌরসভার পশুহাটসংলগ্ন সিপি বাংলাদেশ নামের একটি ভুট্টা ক্রয়কেন্দ্রে ডাকাতি হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গত দুই মাসে ওই এলাকায় ছয়বার ডাকাতি হয়েছে। তাই এলাকাবাসীর মধ্যে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যা নামলেই ওই এলাকা বিরানভূমিতে পরিণত হয়। জরুরি কাজ না থাকলে কেউ বাড়ির বাইরে বের হয় না। ডাকাতির ভয়ে কয়েকটি পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেছে।

শুক্রবারের ঘটনায় ভুট্টা ক্রয় কেন্দ্রের পরিচালক পলাশ আহমেদ জানান, রাত ১১টার দিকে হঠাৎ ১০-১২ জনের ডাকাতদল অফিসে ঢুকে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে অফিসের ক্যাশ কাউন্টারের ড্রয়ার ভেঙে ১৫ লাখ টাকা ও কয়েকটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়।

এ সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মীকে মারধর করে ডাকাতরা। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাকাতির আলামত সংগ্রহ করে।

সন্দেহভাজন মেঘা নামের এক নৈশপ্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি পশুহাটপাড়ায় সজল নামে এক রং শ্রমিকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় প্রতিরোধ করতে গেলে সজলকে গুলি করে ডাকাতরা। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। আগের রাতে একই পাড়ার রতন ও কালুর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ৩ মার্চ রাতে একই পাড়ার চার বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। সব শেষ গত শুক্রবার সিপি বাংলাদেশে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

গতকাল শনিবার এলাকা পরিদর্শন করে ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পশুহাটপাড়ায় সুইপার কলোনি মাদক ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ওখানে সন্ত্রাসীরা আশ্রয় নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। তা ছাড়া এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় বলে এলাকাবাসী জানায়।

মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পশুহাটপাড়ার বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস টিটো জানান, দুই মাস পর পর ছয়-সাতটি ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানুষজন ডাকাতদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না। প্রশাসন জোরালো ভূমিকা না রাখলে এ থেকে কেউ মুক্তি পাবে না। এ অবস্থায় তিনি ডাকাতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, শহরের মধ্যে একই এলাকায় এ ধরনের ডাকাতির বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। শুক্রবারের ডাকাতির ঘটনাটি নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে ডাকাতি কর্মকাণ্ড কিভাবে বন্ধ করা যায়, সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কারা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত, পুলিশ এরই মধ্যে তাদের শনাক্ত করতে পেরেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানও শুরু হয়েছে। শুক্রবার ডাকাতির ঘটনায় এক নৈশপ্রহরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


মন্তব্য