kalerkantho


রাবার ড্যাম নিয়ে ‘ড্রামা’

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ না হওয়ায় আটকে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত ‘রাবার ড্যাম’ নির্মাণ প্রকল্প। ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একনেকে পাসের পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পিডি নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারেনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এর ফলে শুরু করা যাচ্ছে না রাবার ড্যামের নির্মাণকাজ। এখনো দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার, বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে বছরজুড়ে নদীতে পানিপ্রবাহ ও সেচকাজে পানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে মহানন্দার ওপর রাবার ড্যাম নির্মাণের দাবি ওঠে। স্থানীয় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে এসে মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ ও নদী খনন’ প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডাব্লিউএম) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। প্রায় আড়াই বছর ধরে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে প্রায় ১৫১ কোটি টাকার একটি খসড়া নকশা প্রণয়ন করে আইডাব্লিউএম। রাবার ড্যাম নির্মাণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ রেহাইচর এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর আধা কিলোমিটার ভাটিতে স্থান নির্বাচন করে আইডাব্লিউএম। ৩৫৩ মিটার দৈর্ঘ্যর এ রাবার ড্যামের উজান ও ভাটিতে ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় ড্রেজিং করে নদী খনন করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে উজানে ১০ কিলোমিটার ও ভাটি এলাকায় ২৬ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটাই হবে দেশের সবচেয়ে বড় রাবার ড্যাম। এর ফলে নদী তীরবর্তী সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেশ কয়েকবার খসড়া নকশার ছোটখাটো বিষয়গুলো পরিবর্তন করে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে চূড়ান্ত নকশা প্রণয়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চূড়ান্ত নকশায় প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়ায় ১৮৭ কোটি টাকা। এরপর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনে প্রকল্পটি পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি একাধিক কারণ দেখিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে পরিকল্পনা কমিশন কারিগরি কমিটির মাধ্যমে নতুন করে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ‘পাউবো’কে নির্দেশ দেয়। গত এক বছরে কারিগরি কমিটি নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর কিছু কাটছাঁট করে ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। গত ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় প্রকল্পটি পাস হয়। কিন্তু এরপর গত আড়াই মাসেও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্রও আহ্বান করতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড। কবে নাগাদ পিডি নিয়োগ করে দরপত্র আহ্বান করা হবে সে সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এভাবেই নানা অজুহাতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প হওয়ার পরও তা একনেকে পাস হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এখন পিডি নিয়োগে জটিলতার কারণে এর দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে না। এতে নির্ধারিত সময়ে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় সব জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত রাবার ড্যাম নির্মাণকাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, একনেকে পাসের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড এ প্রকল্পের পিডি নিয়োগের জন্য গত ১৯ মার্চ একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না। তিনি আরো জানান, একনেকে পাস হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা নেই। পিডি নিয়োগ সম্পন্ন হলেই দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে রাবার ড্যাম প্রকল্পের মূল কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মন্তব্য