kalerkantho


চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট ক্লিনিকে ছানি অপারেশন

দৃষ্টি হারাচ্ছেন তাঁরা!

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

২৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি ক্লিনিকে চোখের ছানি অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করে বিপাকে পড়েছেন ২০ জন রোগী। তাঁদের চোখ ভালো হয়নি, বরং তাঁদের চোখ জীবাণু আক্রান্ত (ইনফেকশন) হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঢাকায়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের চোখ পুরোপুরি ভালো হবে কি না, তা অনিশ্চিত। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে, তাঁদের চোখ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

রোগীর স্বজন ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ২৪ জন রোগীর চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করা হয়। পরদিন ২৪ রোগীকেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দেয়। রোগীরা নিজ নিজ বাড়ি চলে যান। কিন্তু তিন-চার দিন পর থেকে রোগীদের চোখে ইনফেকশন দেখা দেয়। তাঁরা ইম্প্যাক্ট ক্লিনিকে আসতে থাকেন। এভাবে ২০ জন রোগীর চোখেই দেখা দেয় ইনফেকশন। বিপাকে পড়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তারা নিজেদের উদ্যোগে জীবাণু আক্রান্ত ২০ রোগীকে নিয়ে যায় ঢাকায়। তাঁদের ভর্তি করা হয় ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউটে। পরে সেখান থেকে ১০ জন রোগীকে ভর্তি করা হয় ঢাকার ভিশন আই হাসপাতালে। গতকাল বৃহস্পতিবারও তাঁরা ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ইনফেকশন আক্রান্ত রোগীরা হলেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নতিডাঙ্গা গ্রামের ফাতেমা খাতুন, খাসকররা গ্রামের লাল মোহাম্মদ, এনায়েতপুর গ্রামের খন্দকার ইয়াকুব আলী, মোড়ভাঙ্গা গ্রামের আহাম্মদ আলী, রংপুর গ্রামের ইখলাস আলী, মধুপুর গ্রামের আমিনুদ্দিন, আলমডাঙ্গার কবিরন নেছা, আলমডাঙ্গা স্টেশনপাড়ার কুটিয়া খাতুন, দামুড়হুদা উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের তৈয়ব আলী, চিত্লা গ্রামের নবিছদ্দিন, বড়বলদিয়া গ্রামের আয়েশা খাতুন, কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের গোলজান বিবি, মদনা গ্রামের মধু হাওলাদার, মজলিসপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও সদাবরি গ্রামের হানিফা খাতুন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের গোলজার হোসেন ও আলোকদিয়া গ্রামের অলি মোহাম্মদ, জীবননগর উপজেলার সিংনগর গ্রামের আজিজুল হক, চুয়াডাঙ্গা শহরের স্বর্ণকারপট্টির অবনি দত্ত ও কুষ্টিয়ার হারদীর হাওয়াতন নেছা।

ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দামুড়হুদার বড় বলদিয়া গ্রামের আয়েশা খাতুনের ছেলে আমেল মালিতা বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, ঢাকার চিকিৎসকরা বলেছেন, চোখ ভালো হবে না। তুলে ফেলতে হবে। চোখ তুলে সেখানে পাথরের চোখ লাগানো হবে। দামুড়হুদার মজলিসপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে মুসলিমা খাতুন বলেন, তাঁর বাবার চোখও ভালো হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকার চিকিৎসকরা।

চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক ডা. শফিউল কবির বলেন, ইম্প্যাক্ট ক্লিনিকে তিন দিনের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ছিল। গত ৪ মার্চ ৩৪ জন, ৫ মার্চ ২৪ জন ও ৬ মার্চ দুজন রোগীর চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। ৪ মার্চ ও ৬ মার্চে অপারেশন করা রোগীরা ভালো আছেন। কিন্তু ৫ মার্চ অপারেশন করা ২৪ রোগীর মধ্যে ২০ জনের চোখে ইনফেকশন দেখা দেয়। এ অবস্থা কেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, ইনফেকশন আক্রান্ত ২০ রোগীরই চোখ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন খায়রুল আলম বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

 



মন্তব্য