kalerkantho


ভ্রাম্যমাণ আদালত

যৌন হয়রানির দায়ে ৫ কিশোরকে অর্থদণ্ড

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



যৌন হয়রানির দায়ে ৫ কিশোরকে অর্থদণ্ড

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে যৌন হয়রানির অপরাধে পাঁচ কিশোরকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার এ আদালত পরিচালনা করেন লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিনাত ফৌজিয়া।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, উপজেলার পয়সা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় বেশ কিছু দিন ধরে একদল বহিরাগত মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার সময় উত্ত্যক্ত করছিল। এমনকি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় মেয়েদের ছবি তুলে তাদের নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে সেসব ছবির সঙ্গে ছেলেদের ছবি জুড়ে দিচ্ছিল। এসব ছবি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মোবাইল ফোনে মেয়েদের দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল। এ নিয়ে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন ছিল। গতকাল বেশ কিছু কিশোর বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে মেয়েদের খারাপ ভাষায় কথা বলাসহ যৌন হয়রানি করে। মোবাইল ফোনে ছবি দেখিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইলেরও চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ওই কিশোরদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের ৫০০ থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়।

সূত্র মতে, এই কিশোরদের বাড়ি ওই বিদ্যালয় থেকে কয়েক মাইল দূরে মশদগাঁও, বেজগাঁও ও গাঁওদিয়া গ্রামে। তারা অন্য বিদ্যালয়ের ছাত্র। তারা বাড়ি থেকে স্কুলড্রেস পরে বের হলেও পথে ড্রেস বদলে ব্যাগে ভরে পয়সা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এসে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করত। তাদের মোবাইল ফোনে মেয়েদের ছবি পাওয়া গেছে, যা ফটোশপের মাধ্যমে সম্পাদনা করে ছেলেদের ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

এত লঘু দণ্ড কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের বড় কাজ হচ্ছে সংশোধন হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। দণ্ডিতদের বয়স ১৫-১৬ বছর করে। তাদের ভবিষ্যৎ রয়েছে। জেল দিলে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে পারে। তাই লঘু দণ্ড দিয়ে তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে তারা যে অপরাধ করেছে তাতে তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হতে পারে। আইনটি সম্পর্কে অনেকের ধারণা নেই বলেই তারা এমনটি করার সাহস পেয়েছে। হয়তো বা না বুঝে করেছে।

 



মন্তব্য