kalerkantho


ফতুল্লায় ১০ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’ বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ নামের বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্যদের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ টাকা আত্মসাৎ করে দেশের বাইরে চলে গেছেন অভিযুক্ত হাসেম মিয়া। হাসেম তাঁর পরিবারের লোকজনকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। তবে পাওনা টাকা ফেরত পেতে সমিতির সদস্যরা সমিতির মালিক হাসেমের শ্বশুরবাড়ি ঘেরাও করে বাড়ির লোকজনকে পিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে সমিতির ভুক্তভোগী সদস্যরা থানার সামনে অবস্থান করে।

গতকাল শনিবার দুপুরে ফতুল্লার কাশিপুর দেওয়ানবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও সমিতির সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, কাশিপুর দেওয়ানবাড়ি এলাকার হাসেম মিয়া ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বহুমুখী সমবায় সমিতি খুলে কাশিপুরে প্রায় ৭০০ নারী-পুরুষ সদস্য সংগ্রহ করেন। দীর্ঘদিন ধরে হাসেম সমিতির মাধ্যমে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। নিরীহ লোকজনের টাকায় হাসেম এলাকায় বড় একটি ইজি বাইকের পার্টসের দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে হাসেম মানুষের টাকা হাতিয়ে মালয়েশিয়া চলে যান। পরে সমিতির সদস্যরা টাকা ফেরত পেতে হাসেমের শ্বশুর, স্ত্রীসহ অন্যদের চাপ দেয়। তাঁরা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এক বছর আগে সমিতির সদস্যরা আসল ও লাভের টাকা ফেরত চাইলে তাঁরা টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয়ভাবে বসে সদস্যদের টাকা ফেরত দিতে সময় দেওয়া হলেও না দিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলেন। গতকাল দুপুরে সমিতির সদস্যরা একজোট হয়ে হাসেমের শ্বশুরবাড়ি ঘেরাও করে। বাড়ি থেকে তাঁর শ্বশুর, স্ত্রী, শ্যালক, ও ছেলেকে ঘর থেকে বের করে পিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আকিকুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করেন। হাসেমের শ্বশুর, স্ত্রী, শ্যালক ও ছেলেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সমিতির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে টাকা ফেরত দেওয়ার চুক্তিপত্র হয়। কিন্তু টাকা পাবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে ভুক্তভোগীরা। সমিতির সদস্য মনির হোসেন বলেন, ‘আমি চাকরি করি। হাসেমের খপ্পরে পড়ে বেতনের সব টাকা তার সমিতিতে জমা রাখি। আমার মতো ছয় শ থেকে সাত শ সদস্য রয়েছে। সবার মিলে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সে দেশের বাইরে চলে যায়।’

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, সমিতির সদস্যরা হাসেমের শ্বশুরবাড়ি ঘেরাও করে শ্বশুর, স্ত্রীসহ অন্যদের পিটুনি দিতে চাইলে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করে তাদের থানায় নিয়ে আসে। সমিতির সদস্যদের সম্মতিক্রমে টাকা ফেরত দেওয়ার চুক্তিনামা হয়।



মন্তব্য