kalerkantho


প্রেম মানে না কোনো বাধা

রূপগঞ্জে আটকের পর শ্রমিক দম্পতির মুক্তি

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



‘প্রেম মানে না কোনো বাধা’ কথাটি আবারও সত্য প্রমাণ করলেন রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইলের ডহরগাঁও এলাকার ফকির ফ্যাশনে কর্মরত শ্রমিক দম্পতি। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, প্রেমের টানে উপজাতি বৌদ্ধ মেয়ে মুসলিম প্রেমিককে বিয়ে করেন। কিছুুদিন সুখে সংসার করলেও মেয়ের পরিবারের নানা অত্যাচারের শিকার হন প্রেমিক। প্রাণনাশের হুমকিসহ তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অপহরণের অভিযোগও করা হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় কর্মস্থল থেকে আটক করে তাঁকে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু মেয়ে ও তাঁর প্রেমিককে টলাতে ব্যর্থ হয় অভিযোগকারী পরিবার ও প্রশাসনের লোকজন।

প্রেমের অগ্নিপরীক্ষায় সফল শ্রমিক রফিকুল ইসলাম রনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের বাজবী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২ নম্বর হাফছড়ির বদংপাড়া এলাকার মংশেপ্রু মারমার মেয়ে ঞাইজাইরী মারমা (১৯)।

রূপগঞ্জের ফকির ফ্যাশনের ফিনিশিং বিভাগে কর্মরত রফিকুল ইসলাম রনি জানান, তাঁর সহকর্মী ঞাইজাইরী মারমার সঙ্গে অনেক আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে উভয় পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে ঞাইজাইরী বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হওয়ায় বিষয়টি কোনো পরিবার মেনে নেয়নি। তাই নিজের ইচ্ছায় ঞাইজাইরী বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে গত ৮ মার্চ আদালতের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এ সময় নোটারির মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে রহিমা আক্তার রাখা হয়। একই দিনে আইনজীবী ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে তাঁরা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

এ খবর পেয়ে মেয়ের ফুফাতো ভাই কংচাই মারমা তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার জন্য নানা ধরনের হুমকিধমকি দেয়। বিভিন্ন সময় তাঁদের আটক করে হয়রানিও করা হয়। বারবার বাসা পরিবর্তন করেও তাঁরা নিরাপদে থাকেননি। পরে মেয়ের পরিবার রনির বিরুদ্ধে থানায় অপহরণের অভিযোগ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁদের আটক করে।

এ ঘটনায় ঞাইজাইরী ওরফে রহিমা আক্তার বলেন, ‘সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আমি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। এখন সুখে সংসার করছি। আমার পরিবারের লোকজন অযথাই আমাদের হয়রানি করেছেন।’ এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘অপহরণের বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় মেয়েটিকে তাঁর স্বামীর হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে।’

 



মন্তব্য