kalerkantho


ফের বেপরোয়া কুবি ছাত্রলীগ

সাংবাদিককে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের বেপরোয়া নেতাকর্মীদের হাতে ফের মারধরের শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি সাব্রী সাবেরিন গালিব। শনিবার ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজের সমর্থকরা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজনবরণ বিশ্বাসের কক্ষে হামলা চালায়। খবর পেয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ওই সাংবাদিক মারধরের শিকার হন।

জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে স্বজনবরণ বিশ্বাসের কক্ষ ভাঙচুর করতে কাজী নজরুল ইসলাম হলে যায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির সমর্থকরা। এ সময় ওই হলে আইন বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সাব্রী সাবেরিন গালিব পেশাগত কাজে তথ্য সংগ্রহে গেলে তাঁকে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ ইসলাম গল্প, সহসভাপতি দ্বীন ইসলাম লিখনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নেতারা আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক নাহিদুল ইসলামকে সস্ত্রীক লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার হন বায়েজিদ ইসলাম গল্প। গত বছরের ১৩ মে এক সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দ্বীন ইসলাম লিখনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এর পরও গত ২২ নভেম্বর ১৬১ সদস্যের শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে দ্বীন ইসলাম লিখনকে সহসভাপতি করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিক্ষক, সাংবাদিক লাঞ্ছনাসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘যুগ্ম সম্পাদক স্বজনবরণ বিশ্বাস হলের টাকা নিয়ে চলে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাঁর কক্ষে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটে।’

সাংবাদিককে মারধরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ বলেন, ‘সাংবাদিক সমিতি এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করছে। বিচারের জন্য সমিতি কঠোর অবস্থানে যেতেও প্রস্তুত রয়েছে।’

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এ ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাংবাদিক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক গঠনমূলক কাজ করে। অভিযোগের পর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য