kalerkantho


মানিকগঞ্জ

মন্দির ভাঙার পর গড়ে দিলেন আ. লীগ নেতা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাতের অন্ধকারে ভেঙে ফেলা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা শীলপাড়া সর্বজনীন দুর্গামন্দির পুনর্নির্মাণ শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গতকাল শনিবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণের যাবতীয় ব্যয় বহন করছেন মন্দির ভাঙা মামলার আসামি জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও শিবালয় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম খান।

মন্দির কমিটির সভাপতি, এলাকাবাসী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার আক্কাছ আলী শীলপাড়া এলাকায় ১৬০ শতাংশ জমির আরএস রেকর্ডমূলে মালিক ছিলেন। তিনি প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা প্রমথ চন্দ্র সূর্য শীলকে জমিটি দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। সূর্য শীলের দাবি, আক্কাসের অনুমতি নিয়ে জমির এক পাশে মন্দির নির্মাণ করা হয়। মন্দিরের জন্য কিছু জমি লিখে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আক্কাস। স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রায় ২০ বছর ধরে এখানে দুর্গাপূজা করে আসছিলেন। কিন্তু আক্কাছ আলী মারা গেলে তাঁর ছেলেরা কিছুদিন আগে জমিটি আব্দুর রহিম খানের কাছে বিক্রি করে দেন।

রহিম খান তাঁর জমি বুঝে নিতে গেলে সূর্য শীলের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে মন্দির কমিটির সঙ্গে রহিম খানের টানাপড়েন চলছিল। গত ৩০ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরটি ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মন্দিরের টিন, বেড়া, খুঁটিবোঝাই একটি ট্রাক আটক করে। গ্রেপ্তার করে তিনজনকে। এ ঘটনায় আব্দুর রহিম খান, তাঁর ভাগ্নে শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনসহ কয়েকজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন সূর্য শীল। মন্দির ভাঙার প্রতিবাদে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদসহ সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। কালের কণ্ঠ ‘প্রতিমাসহ মন্দির ভেঙে জমি দখলের চেষ্টা’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করে। দলের মধ্য থেকে এ নিয়ে সমালোচনা হয়।

একপর্যায়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল মোহাম্মদ রাশেদের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। সিদ্ধান্ত হয়, রহিম খান মন্দিরের জন্য ৮ শতাংশ জমি সাফকবলা রেজিস্ট্রি এবং নিজ খরচে মন্দিরটি পূর্বাবস্থায় তৈরি করে দেবেন। লিখিতভাবে সমঝোতার বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে এক মাসের মধ্যে মন্দির পুনরায় স্থাপনের নির্দেশ দেন আদালত।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি বিষয় ফয়সালা হয়েছে। এতে সবাই সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মন্দিরে যাওয়ার জন্য সরকারি অর্থায়নে একটি রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হবে।’


মন্তব্য