kalerkantho


ভালুকায় বাল্যবিয়ের আয়োজন

শিক্ষিকা কি পারবেন ছাত্রীকে রক্ষা করতে?

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভালুকার হালিমুন্নেছা মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী লিপি আক্তার (১৩)। উপজেলার মামারিশপুর গ্রামে তার বাড়ি। বাবার নাম তারা মিয়া। পড়াশোনা ও খেলাধুলায় খুবই পারদর্শী সে। ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, ভলিবল, হ্যান্ডবল, ফুটবল, দৌড় প্রতিযোগিতাসহ বিদ্যালয়ের সব খেলাতেই চ্যাম্পিয়ন ফুরফুরে এ মেয়েটি। স্কুলে এত দিন নিয়মিত ছিল সে। তবে কয়েক দিন ধরে তার মধ্যে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখতে পান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আনোয়ারা নিনা। ক্লাসে উদাসীন, থাকে একাকী। এর কারণ জিজ্ঞেস করলেও নিরুত্তর থাকে সে।

অবশেষে গত সোমবার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন মা-বাবা জোর করে বিয়ে দিচ্ছেন লিপিকে। আগামীকাল শুক্রবার তার বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। এরই মধ্যে বরপক্ষ নাকফুল পরিয়ে দিয়ে গেছে তাকে। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে এলে লিপির কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলেন শিক্ষিকা। কথা বলতে গিয়েই ডুকরে কেঁদে উঠল লিপি। বলল, ‘ম্যাডাম, আমার নাকফুলটা খুলে দিন প্লিজ।’ তার কথায় আবেগাপ্লুত হয়ে শিক্ষিকা বলেন, ‘আমি তোমাদের বাড়িতে যাব। তারপর সবার সামনে তোমার নাকফুল খুলে দেব।’

ওই দিন বিকেলেই প্রধান শিক্ষিকা মেয়েটির বাড়ি গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় লিপির মা সংসারের অভাব-অনটনের কথা তুলে ধরেন। কথায় কথায় বেরিয়ে আসে আরেকটি ভয়ংকর তথ্য। লিপির মা জানান, তাঁদের গ্রামে ভাড়ায় বসবাস করেন সাইদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক লোক। এরই মধ্যে চারটি বিয়ে করেছেন তিনি। সাইদুলের এবার কুনজর পড়েছে লিপির ওপর। তিনি লিপিকে যেভাবেই হোক বিয়ে করতে চান। পড়াশোনা করানোর মতো টাকা নেই বলে লিপির বাবাও বিয়েতে রাজি হন।

এ কথা শুনে প্রধান শিক্ষিকা বিয়ে না দেওয়ার শর্তে লিপির পড়াশোনার দায়িত্ব নেন। পরে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে তার মাকে ধারণা দেন। এ সময় প্রধান শিক্ষিকা স্থানীয় লোকদের কাছেও এ ব্যাপারে সাহায্য চান। এর ব্যত্যয় হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পরে এলাকার মানুষের উপস্থিতিতে মেয়েটির নাকে পরানো নাকফুলটি খুলে নেন। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা আনোয়ারা নিনা বলেন, ‘লেখাপড়ার প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে মেয়েটির। সে অনেক বড় হতে চায়। তা ছাড়া লিপির মা কথা দিয়েছেন তিনি মেয়েকে বাল্যবিয়ে দেবেন না। বিয়ের তারিখ এখনো পার হয়নি। তাই এ নিয়ে কিছুটা চিন্তায় আছি। এর পরও কিছু হলে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেব।’

 



মন্তব্য

Nahid commented 22 days ago
Superb... Ms.Nina. Appreciate for the great job. We r with you, go ahead.