kalerkantho


শিক্ষককে পেটালেন শ্রমিক লীগ নেতা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা ও তাঁর দলবল পবিত্র কুমার দত্ত নামের এক শিক্ষককে মারধর করেছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার তারুন্দিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই লাঞ্ছিত শিক্ষক থানায় গিয়ে অভিযোগ দিতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মীমাংসার কথা বলে তাঁকে ফিরিয়ে আনে। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জানা গেছে, তিন মাস পরেই তিনি শিক্ষকতা থেকে অবসরে যাবেন।

পবিত্র কুমার দত্ত তারুন্দিয়া ইউনিয়নের জগৎ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্ম বিষয়ের শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটিতে এক বছর আগে পরিচালনা পর্ষদের (কমিটি) মেয়াদ শেষ হয়। পরে একটি আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে ছয় মাস কার্যক্রম চালানো হয়। আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জটিলতা দেখা দেয়। তখন শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারি কর্মকর্তাদের (ইউএনও/ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) প্রতিস্বাক্ষরে ছাড় করা হতো। সূত্র জানায়, নতুন পর্ষদ গঠনের জন্য বিদ্যালয় থেকে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচন দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যাঁরা কমিটিতে আসতে ইচ্ছুক তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচিত হওয়া নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। ফলে নানা বাধায় জগৎ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়নি। সম্প্রতি এলাকার মো. আনোয়ার কাদির মিন্টু নামে এক ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করে একটি আহ্বায়ক কমিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) বোর্ড থেকে অনুমোদিত হয়ে আসে। গত মঙ্গলবার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরে ওই কমিটির সভা ডেকে রেজল্যুশন করে আনোয়ার কাদিরকে অনুমোদন দেওয়া হয়। সেখানে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে পবিত্র কুমার দত্ত উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কুমার জানান, মঙ্গলবার রাতে  তিনি তারুন্দিয়া বাজারে তাঁর ফার্মেসিটি বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। তারুন্দিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি শহীদ মিয়া, ছালাম, আবুল মিয়াসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। কমিটির জমা দেওয়া সম্পর্কে তাঁরা তাঁর কাছে কৈফিয়ত চান। তিনি শহীদকে বলেন, কমিটি অনুমোদন করেছে মাউশি অধিদপ্তর। আর রেজল্যুশন করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়। এখানে তাঁর কিছু করার ছিল না। এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে শহীদ ও তাঁর সহযোগীরা পবিত্র কুমারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হাতে থাকা টর্চলাইট দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

অভিযুক্ত শহীদ মিয়া বলেন, ‘মারধর নয়, সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম খান বলেন, স্থানীয় কয়েকজন মীমাংসার কথা বলে ওই শিক্ষককে থানা থেকে নিয়ে যান। মীমাংসা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।



মন্তব্য