kalerkantho


জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন

যাত্রী ভোগান্তির শেষ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যাত্রী ভোগান্তির শেষ নেই

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ট্রেনে হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। ওয়েটিং রুম না থাকায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই। পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় ধুলাবালিতে সয়লাব স্টেশন। পর্যাপ্ত জনবলেরও অভাব রয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

জানা গেছে, গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশন হয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ হাজার লোক শুধু ঢাকায় যাতায়াত করে। তা ছাড়া কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার লোক প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসা করে। জয়দেবপুর থেকে ঢাকার কমলাপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। ট্রেনে কমলাপুরে যেতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। কিন্তু সড়কপথে গাজীপুর থেকে কমলাপুর যেতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। মেইল ট্রেনে ঢাকার ভাড়া মাত্র ২০ টাকা। অন্যদিকে বাসের ভাড়া ৮০ টাকা। তাই দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ট্রেন ভ্রমণ। বাড়ছে যাত্রীও। সরকারি কর্মকর্তা, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার যাত্রী দুঃসহ যানজট এড়াতে ট্রেনে যাতায়াত করছে। কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর কারণে ট্রেন ভ্রমণ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যাত্রী বাড়লেও দেশের অন্যতম বৃহৎ জয়দেবপুর জংশনে যাত্রীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই।

গাজীপুর শহরের দক্ষিণ ছায়াবীথি এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন জানান, চাকরির কারণে শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন রাজধানীর বনানীতে যাতায়াত করেন তিনি। সময় ও টাকা বাঁচাতে প্রতিদিন ট্রেনে যাওয়া-আসা করেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্টেশনে বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তা ছাড়া চারপাশের পরিবেশও নোংরা।’

মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘বহু নারী যাত্রী এ স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন কিন্তু এখানে টয়লেট না থাকায় প্রায়ই তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’ গাজীপুর শহরের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, ‘স্টেশনের যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।’ 

স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সড়কপথে যানজটের কারণে রেলপথে যাত্রীর চাপ বেড়েছে জয়দেবপুর রেল জংশনে। কিন্তু সে তুলনায় সেবার মান বাড়েনি। যাত্রীদের জন্য ওয়েটিং রুম নেই। এ কারণে শত শত যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থেকে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করে। রেল জংশনের বাইরে একটি মাত্র শৌচাগার আছে। অনেক সময় যাত্রীদের শৌচাগার ব্যবহারের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়। তা ছাড়া স্টেশন থেকে বের হওয়ার পথ খুব ছোট। তাই স্টেশন থেকে বের হওয়া কিংবা প্রবেশের সময় ভিড়ে যাত্রীদের কষ্ট হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে স্টেশনে ধুলাবালি উড়ছে। স্টেশনের ভেতরে অবৈধ দোকানপাটে ভরে গেছে।’

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, জয়দেবপুর স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ৪৪টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে আসা-যাওয়া করে। এ ছাড়া গাজীপুর থেকে তুরাগ ও চারটি ডেম্যু ট্রেন আসা-যাওয়া করে। এ জংশন থেকে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি যাত্রী শুধু ঢাকায়ই যাতায়াত করে। এখানে একজন স্টেশন মাস্টার ও তিনজন সহকারী স্টেশন মাস্টার দায়িত্ব পালন করছেন। টিকিট বিক্রির লোক ১৫ জনের মধ্যে আছেন মাত্র সাতজন। টিকিট কালেক্টর হিসেবে রয়েছেন মাত্র দুজন। 

রেলওয়ে পুলিশের জয়দেবপুর জংশন ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক রকিবুল হক জানান, জয়দেবপুর জংশন দেশের প্রথম শ্রেণির একটি স্টেশন। কিন্তু সেই সেবা এখানে নেই। রেলস্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি গেট। এ কারণে অনেকেই রেললাইন ক্রস করে যাওয়া-আসা করেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই জরুরি ভিত্তিতে স্টেশনে দুটি গেট করা প্রয়োজন।

জয়দেবপুর জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘জয়দেবপুর জংশন নিয়ে রেলওয়ের ব্যাপক পরিকল্পনা আছে। আগামীতে এখানে দ্বিতল স্টেশন করা হবে। ডেম্যু ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। তবে এগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে রেল মন্ত্রণালয়।’

    


মন্তব্য