kalerkantho


কুলিয়ারচরের হারিছ হত্যা মামলা

২২ বছর পর রায়, ৯ জনের যাবজ্জীবন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কিশোরগঞ্জে ২২ বছর আগের একটি হত্যা মামলার রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ৯ জনকে। গতকাল মঙ্গলবার সেই মামলার রায় দেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (তৃতীয়) আদালতের বিচারক মুহা. আবু তাহের। রায়ে ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়াও দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে দণ্ডপ্রাপ্তরা পূর্ববিরোধের জেরে জেলার কুলিয়ারচর বাজারের ব্যবসায়ী হারিছ মিয়াকে হত্যা করে।

দণ্ডিতরা হলো কুলিয়ারচর উপজেলা গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের মাতুয়ারকান্দা গ্রামের আবু সিদ্দিক, আবু বাক্কার, মতি মিয়া, ওয়াহাব, আউয়াল, মহররম আলী, ইসমাইল মিয়া, মোস্তফা ও রুস্তম আলী। তাদের মধ্যে রুস্তম আলী ও আবু সিদ্দিক পলাতক। অন্য আসামিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিল। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. ইব্রাহিম নামের এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিচার চলাকালে তিন আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেন বিচারক।

আদালত ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, মাতুয়ারকান্দা গ্রামের হারিছ মিয়া কুলিয়ারচর বাজারে মাংস বিক্রি করতেন। গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে আসামিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে তিনি একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল।

সেই বিরোধের জেরে ১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দিনের বেলায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হারিছ মিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কুলিয়ারচর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা একই গ্রামের শহীদুল্লাহ বাদী হয়ে ১৩ জনের নামে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সিআইডির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘদিন শুনানি শেষে গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি দিলীপ কুমার ঘোষ ও আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মো. ইদ্রিস মিয়া মামলা পরিচালনা করেন।


মন্তব্য