kalerkantho


গাইবান্ধা-১ আসনের উপনির্বাচন

সুন্দরগঞ্জের গৌরব ফেরাতে চান শামীম

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সুন্দরগঞ্জের গৌরব ফেরাতে চান শামীম

নির্বাচন সামনে রেখে ব্যারিস্টার শামীম গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের গ্রাম থেকে গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাসহ নানা কারণে দেশব্যাপী আলোচিত সুন্দরগঞ্জ। সুন্দরগঞ্জকে আবার গৌরবের ধারাবাহিকতায় ফেরাতে ভূমিকা রাখতে চান তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি আগামী ১৩ মার্চ গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী। দলীয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়ার উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির ব্যাপারে সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। ‘অসুন্দরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে সুন্দরগঞ্জ’—তাঁর এই স্লোগান সবার ভালো লাগার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

শামীম জানান, একসময় জেলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুন্দরগঞ্জের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি নিয়ে এলাকাবাসী গৌরব করত। কিন্তু পরে নানা কারণে তা ম্লান হতে থাকে। তিনি নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আলোকিত সুন্দরগঞ্জ গড়বেন।

স্বাধীনতার পর পাঁচবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুন্দরগঞ্জ আসনে জাপার প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিল। ২০০৭ সালে শামীম হায়দার জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আইন ও বিচারবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হন। ২০১৩ সালে দলের মনোনয়ন পেলেও দলের নির্দেশে প্রত্যাহার করে নেন। বিরোধী দল জাপার প্রার্থী হিসেবে ২০১৭ সালের ২২ মার্চ উপনির্বাচনে অংশ নেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাপার সভাপতি শামীম। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গোলাম মোস্তফা আহমেদ নির্বাচনে জয়ী হলেও শামীম ভোট পান প্রায় ৬২ হাজার। শামীম বলেন, নির্বাচনটি অবাধ হলে তাঁর বিজয় নিশ্চিত ছিল। কারণ এই অঞ্চল জাপার দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ২০০৭ সাল থেকেই সুন্দরগঞ্জে জাপাকে সংগঠিত করে পরিচালনা করছেন শিক্ষানুরাগী শামীম। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের টক শোতে জাপার মুখপাত্র হিসেবে তাঁর যুক্তিনির্ভর ও তথ্যবহুল বক্তব্য মানুষের নজর কাড়ে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাপার নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শামীম হায়দারকে ভিন্ন পরিচয়ে চিহ্নিত করেছে। এর প্রভাব উপনির্বাচনে পড়বে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘বিভিন্ন অসুন্দর ও সমালোচিত ঘটনার কারণে ৫০ বছর পিছিয়ে গেছে সুন্দরগঞ্জ। সুন্দরগঞ্জকে আলোকিত করে গড়ে তুলতে প্রয়োজন তরুণ নেতৃত্বের। আমি নির্বাচিত হলে সুন্দরগঞ্জে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, চরাঞ্চলে স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও আইটি ভিলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেব। ভাঙন প্রতিরোধে নদীশাসন ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেব।’ ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন উপনির্বাচনে কাজ করতে চান শামীম। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শামীম কালের কণ্ঠকে বলেন, তিস্তাপারের এই জনপদের মানুষের ভালোবাসা তাঁর শক্তির উৎস। তিনি আজীবন তাঁদের পাশে থাকতে চান।

সরগরম রাজনীতির মাঠ

৮ ও ১৪ জানুয়ারি জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সুন্দরগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় শামীম হায়দারকে গাইবান্ধা-১ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দেন। এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন শিল্পপতি আফরোজা বারী। ফলে উপনির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। দল দুটির নেতাকর্মীরা দলীয় ও সামাজিক কর্মসূচি থেকে নৌকা ও লাঙল প্রতীকে ভোট চাইছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির মাঠ এখন সরগরম। আওয়ামী লীগ ও জাপার মধ্যেই ভোটযুদ্ধ সীমাবদ্ধ থাকবে বলে রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হলে সুন্দরগঞ্জ আসনটি শূন্য হয়। ২০১৭ সালের ২২ মার্চ উপনির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হলে আসনটি ফের শূন্য হয়।


মন্তব্য